বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও সঠিক মূল্যে না পাওয়ায় একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের পোল্ট্রি মুরগীর খামার। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ইচ্ছে থাকার পরও খামার করতে পারছেন না অনেকে। অব্যাহতভাবে লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে খামারিদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সুদ মুক্ত ঋণ প্রদান ও বাচ্চার দাম কমাতে পারলে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় আবারও পোল্ট্রি শিল্পে বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করছেন খামারিরা।
কামারখন্দ উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ ও পোল্ট্রি মালিকদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৮০ দশকের শুরুতে পোলট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটতে শুরু করে। ১৯৯৬ সাল থেকে উপজেলায় অসংখ্য পোলট্রি খামার গড়ে ওঠে। শিক্ষিত কর্মহীনরা স্বল্প পুঁজি নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু এবং বন্যায় সব কিছু হয়ে যায় লণ্ডভণ্ড।
২০০৭ সালের বন্যা ও ২০১২ সালে এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু এবং দফায় দফায় বন্যায় বন্ধ হয়ে যায় বেশির ভাগ খামার। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় খামারিরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে চেষ্টা করছেন তারা। বর্তমানে উপজেলায় ৩৫টি লেয়ার, ৯৪টি ব্রয়লার, ৬৩টি সোনালী মুরগি ও ৪৪টি হাঁসের খামার রয়েছে। এসব হাঁস মুরগী থেকে বছরে ২ কোটি ২ লাখ ১৩ হাজার পিস ডিম ও ৪ হাজার ২শ’ ৩০ মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন হয়ে থাকে। যা দেশে আমিষের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে।
পোল্ট্রি খামারি এনামুল কবীর রিপন ও আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, গত ৬ বছর আগের লেয়ার মুরগির বাচ্চার দাম ছিলো ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। এখন এই বাচ্চা খামারিদের কিনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। ওষুধ, তুষ ও খাদ্যে কিনতে হচ্ছে উচ্চ মূল্যে। আমাদের (খামারিদের) উৎপাদিত ডিম ও মুরগির বিপণন কেন্দ্র না থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকারের খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে সেখানে ডিমের বিক্রয় কেন্দ্র তৈরি করলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তাদের মতে, দেশীয় পোলট্রি শিল্প ধ্বংস করতে ভারতীয় বহুজাতিক কোম্পানি মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভারতীয় মুরগি ও ডিম দেশে ঢুকতে না দেওয়াসহ এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বাচ্চা ও খাদ্যে দাম কমানোর পাশাপাশি সরকারের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল হাই জানান, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি হলেও ন্যায্য মূল্যে না পাওয়ায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো আছে সেগুলোও বন্ধের উপক্রম। এটি মোকাবেলায় সারাদেশের উৎপাদন এবং বিপণনের একই নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
