ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় পুলিশের সদর দপ্তরের তদন্ত শেষ হয়েছে। এরপর পুলিশের সিআইডির একটি তদন্ত দল এ হত্যাকাণ্ডে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয় তদন্ত শুরু করেছে। অপরদিকে, মাদ্রাসার আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘নুসরাত হত্যার ঘটনায় তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পাঁচ সদস্যের তদন্ত দলটি গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্ত করে ঢাকা ফিরেছেন। অধিকতর তদন্তের জন্য দুই দিন পর ওই কমিটির দুই সদস্য পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে। ২২ এপ্রিল থেকে দুই দিনের তদন্ত শেষে ২৩ এপ্রিল ঢাকায় তদন্ত দলটি ফিরে যায়। এ দুদিনে তদন্ত দলটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাত জন চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, দুইজন শিক্ষার্থী ও ৪/৫ জন সাংবাদিকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।’
সিআইডি তদন্ত দলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বলেন, ‘সিআইডি পুলিশের একটি দল সোমবার থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তারা নুসরাত হত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সোনাগাজীতে অবস্থিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে অভিযান শুরু করেছে। তারা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ মাদ্রাসার একাউন্ট ও বিভিন্ন ব্যক্তির একাউন্ট তদন্ত করছেন।’
শুরু থেকে এ পর্যন্ত গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যে সকল তথ্য উঠে এসেছে সেসব বিষয়ে তদন্তে নেমে এসেছে সিআইডির তদন্ত দলটি তদন্ত শেষে ঢাকা সদর দপ্তরে তাদের প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে সিআইডির কর্মকর্তা জানান।
ফেনীর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজজামান বলেন, ‘আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করার পর নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের আহবায়ক কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনার কাজ করবেন ‘
তবে নুসরাত হত্যার ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাজ শেষ না হওয়ায় এখনও রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। ওই কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট পি কে এম এনামুল করিম প্রশিক্ষণে সিলেটে থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সময় লাগছে বলে তিনি জানান।
আলোচিত এ মামলায় এজহারভুক্ত আট আসামিসহ এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মনিসহ আট জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হাটহাজারীতে গৃহবধূ মনি হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
এছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন ওরফে গুজা রুহুল, পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ও মাদ্রাসার শিক্ষক আবছার উদ্দিন।
ইত্তেফাক/নূহু
