ডাইনোসরের কঙ্কাল এতটা অক্ষত থাকে কীভাবে

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৮
আনুমানিক ২৩ কোটি বছর পূর্বে বিবর্তন হয়েছিল বৃহদাকার মেরুদণ্ডী প্রাণী ডাইনোসরের। প্রায় ১৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে এ ডাইনোসর। ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে একটি বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসর। সেই সময়ের ডাইনোসর সম্পর্কে জানার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাদের জীবাশ্ম তথা কঙ্কাল। এইসব জীবাশ্ম পরীক্ষা করে অনেক তথ্য জানতে পারছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এতোদিন মানুষের মধ্যে কৌতূহল ছিল এতো বড় প্রাণী ডাইনোসরের কঙ্কাল কীভাবে লক্ষ কোটি বছর ধরেও এতোটা অক্ষত রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডাইনোসরের বৃহদাকৃতির কারণেই তাদের কঙ্কাল এতোটা অক্ষত থাকা সম্ভব হয়েছে। তাদের যুক্তি, জীবাশ্মের আকার বড় হলে তা প্রকৃতির প্রতিকূলতা সহ্য করে প্রস্তরীভবন পর্যন্ত সহজে টিকে থাকতে পারে। এ ছাড়া এ সব ডাইনোসরের বেশিরভাগ কঙ্কাল এমন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে যেখানে খনিজ উপাদানে পূর্ণ। বিজ্ঞানীদের অভিমত, এ খনিজ উপাদানের কারণেও নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এ সব কঙ্কাল।
 
ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রথম ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়। এরপর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবিষ্কার হয়েছে ডাইনোসরের কঙ্কাল। তবে ১৯৯০ সালের পর তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সংখ্যক ডাইনোসরের কঙ্কাল আবিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত ১২শ প্রজাতির ডাইনোসরের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। যার এক-তৃতীয়াংশ সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে ১৯৯০ সালের পর। সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝে মধ্যেই নতুন নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের সন্ধান মিলছে। বলা যায় প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মিলছে ডাইনোসর সম্পর্কে চমকপ্রদ সব তথ্য। চীনের থেকে আবিস্কৃত পালকযুক্ত থেরাপড় ডাইনোসর মানুষকে রীতিমতো মুগ্ধ করেছে। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাথুরে অঞ্চল থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে শিংযুক্ত ডাইনোসরের কঙ্কাল। আর্জেন্টিনা থেকে আবিস্কৃত হয়েছে এ যাবত্কালের সবচেয়ে বৃহদাকৃতির ডাইনোসরের কঙ্কাল। আর্জেন্টিনা থেকে আবিষ্কৃত ডাইনোসরের কঙ্কালগুলো একশ ফুটের কাছাকাছি। আর্জেন্টাির এ সব ডাইনোসরের কঙ্কালে লম্বা ঘাড় ও চার পা বিশিষ্ট। এরা তৃণভোজী আর্জেন্টিনোসোরাস নামে পরিচিত।
 
পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই ডাইনোসরদের অস্তিত্ব মিলেছে। যাদের মধ্যে শাকাহারী ও মাংসাশী- উভয় প্রকারই রয়েছে। যদিও উত্পত্তিগতভাবে ডাইনোসরেরা দ্বিপদ, কিন্তু অবলুপ্ত অনেক চতুষ্পদ প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে এবং কোনো কোনো প্রজাতি গমনের সময় প্রয়োজনমত দুই পা অথবা চার পা ব্যবহার করতে পারত। অবলুপ্ত ডাইনোসর প্রজাতির বিশাল আয়তন এবং তাদের সম্ভাব্য হিংস্র স্বভাবের দরুন ডাইনোসরের প্রতি সব বয়সের মানুষের বিশেষ আগ্রহ কাজ করে। ডাইনোসরেরা বর্তমান বিশ্ব সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ডাইনোসর নিয়ে সারা বিশ্বেই মানুষের আলাদা এক ধরনের কৌতূহল কাজ করে। যদিও পৃথিবীর মোট ডাইনোসরের শতকরা একভাগেরও কঙ্কাল এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি।—ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
 
ইত্তেফাক/আরকেজি