মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত বিচারপতি ব্রেট এম কাভানাহর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগকারী ক্রিস্টিনা ফোর্ড গতকাল বৃহস্পতিবার সিনেটে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর আগে সিনেটের বিচার বিষয়ক কমিটি ও অভিযোগকারী ক্রিস্টিনা ফোর্ডের আইনজীবীরা এ দিন প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ফোর্ড অভিযোগ করেছেন, ৩০ বছর আগে হাইস্কুলে পড়ার সময় এক পার্টিতে কাভানাহ মাতাল অবস্থায় তাকে যৌন হয়রানি করেন। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ডায়ান ফাইনস্টিনকে তিনি গত জুলাইতে বিষয়টি জানান, কিন্তু ফাইনস্টিন কাভানাহর মনোনয়ন প্রশ্নে সিনেটে শুনানির আগে বা পরে বিষয়টি কাউকে জানাননি। মাত্র গত সপ্তাহে তিনি তদন্তের জন্য এফবিআইকে পত্রটি হস্তান্তর করেন।
তার এই অভিযোগের কারণে সুপ্রিম কোর্টে কাভানার নিয়োগ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গতকাল শুনানিতে ফোর্ড তার দাবির পক্ষে অনড় থাকেন। তিনি বলেন, তাকে কেউ অর্থ দিয়ে এই অভিযোগ করায়নি। তিনি যা বলেছেন সত্য বলেছেন। এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাভানাহ।
কাভানাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এটাই ছিল ফোর্ডের প্রথম সরাসরি সাক্ষ্যদান। এতে তিনি বলেন, আমার ওপর ব্রেটের হামলা আমার জীবনকে ব্যাপক আকারে পাল্টে দিয়েছে। বহুদিন আমি এই ঘটনা নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলতে ভীত ছিলাম।
অন্যদিকে কাভানাহ সাক্ষ্যদানের সময় বলেন, বিচারপতি হিসেবে তার মনোনয়ন নিশ্চিতকরণ একটি জাতীয় লাঞ্ছনায় পরিণত হয়েছে। কমিটির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সংবিধান সিনেটকে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিয়েছে। কিন্তু আপনারা উপদেশ আর অনুমতিকে সন্ধান আর ধ্বংস দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন।
কাভানাহ ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ করে বলেন, জুলাই মাসে আমার মনোনয়নের পর থেকে ‘বাম’ থেকে আমার মনোনয়ন ঠেকানোর জন্য যেকোন কিছু উপস্থাপনের একধরণের উন্মত্ততা দেখা গেছে। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো চূড়ান্ত ভোটে আমাকে পরাজিত করতে পারবেন, কিন্তু আমি কখনোই হাল ছাড়বো না। কখনোই না।
ফোর্ডের ব্যাপারে কাভানাহ জানান, ফোর্ড যৌন হামলার স্বীকার হয়েছেন এব্যাপারে তার কোন সন্দেহ নেই। তবে তিনি কখনো এরকম কিছু করেননি। ফোর্ডের সঙ্গেও না, অন্য কারো সঙ্গেও না।
সিনেটে কাভানাহর সাক্ষ্যদানের কিছুক্ষণ পর নিজের মনোনীত প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইটে তিনি জানান, কাভানাহর সাক্ষ্য ছিল শক্তিশালী, সৎ ও চিত্তাকর্ষক।
এদিকে, বৃহস্পতিবার কাভানাহর মনোনয়নের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মানুষ।
সাক্ষ্যদান শেষে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের প্রতি আহবান জানায় কাভানাহর মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে। অন্যদিকে, আজ শুক্রবার ভোটের জন্য চাপ দেন রিপাবলিকানরা। -বিবিসি
ইত্তেফাক/ জেআর
