অপরিকল্পিত সড়ক এখন গলার কাঁটা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:২৫
পীরগাছায় বেড়িবাঁধের আদলে একটি অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণের ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে ১০টি গ্রামের ৫ হাজার পরিবার, আমনক্ষেত ৫০ হাজার হেক্টর জমির উঠতি ফসল ও ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। 
 
এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যার পর ১৯৯০ সালে উপজেলা ছাওলা ইউনিয়নের বোল্ডারের মাথা থেকে তাম্বুলপুর ইউনিয়নের সাহেব বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কি.মি তিস্তা ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই বাঁধের উজানে দায়সারাভাবে ২০০ মিটার একটি বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। ২০০৭ সালে তিস্তার তীব্র ভাঙনে ওই বেড়িবাঁধসহ একের পর এক জনপদ বিলীন হয়ে যায়। ওই সময় থেকেই এলাকাবাসী দাবি করে আসছে উজানে শিবদেব চরে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্ব না দেওয়ায় গত বছরেও শিবদেবচর গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাড়ি ঘর, আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় এবং ৩টি ইউনিয়নের ৩৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ১৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। চলতি বছরেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সমপ্রতি তিস্তা নদীর ভাটিতে সাহেব বাজার থেকে লাটশালা ও চরখোদ্দা পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মি একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়। ওই সড়কটিই এলাকাবাসীর সুখ কেড়ে নিয়েছে। উজানে বেড়িবাঁধ না থাকায় ২ মাস আগে তিস্তার পানি ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব চর, জুয়ান, সদরা, পূর্ব ছাওলা, জুয়ানের চর, দক্ষিণ গাবুড়া, আমিন পাড়া ও বৈরাগীপাড়াসহ ১০টি গ্রামের ঢুকে পড়ে। কিন্তু নতুন ওই সড়ক নির্মাণের ফলে পানি নেমে যেতে পারছে না। ফলে  প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
 
এ ছাড়া ওই এলাকার প্রায় ৫০ হাজার একর জমির আমনসহ উঠতি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 
 
চর ছাওলা গ্রামের সহিদ আলী, তমিজ উদ্দিন ও আবুল কালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাউবোর ভুলের কারণে তারা এ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। উজানে শিবদেব চর এলাকায় একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতো তাহলে লোকালয়ে নদীর পানি ঢুকতে পাড়তো না, আর এতো ক্ষতিও হতো না।
 
ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল হাকিম জানান, একটি বেড়িবাঁধ হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
 
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাউজুল কবির জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু