চৌহালীতে তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস, ১৮ ঘরবাড়ি বিলীন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:২৬
চৌহালী উপজেলা সদর রক্ষায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর সংরক্ষণ বাঁধে আবারো বিপর্যয় নেমে এসেছে। যমুনার পানি কমতে থাকায় প্রচণ্ড স্রোতে পশ্চিম জোতপাড়া অংশে এবার বিলীন হয়েছে প্রায় ৫শ’ মিটার এলাকা। মুহূর্তের মধ্যেই বিলীন হয়েছে ১৮টি পরিবারের ঘর-বাড়ি। এতে আতঙ্কে আছেন তীরে বসবাসকারীরা।
 
জানা গেছে, উপজেলা সদরের পৌনে চার কি.মি এবং টাঙ্গাইলের সোয়া তিন কি.মি মিলে সাত কি.মি এলাকা যমুনার কবল থেকে রক্ষায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ১২২ কোটি টাকার কাজ ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু করে গত বছর শেষ হয়। এতে রক্ষা পায় নদীর পূর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল থেকে দক্ষিণে নাগরপুরের পুকুরিয়া, শাহজানীর খগেনের ঘাট, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজানের চেকির মোড়, আজিমুদ্দি মোড়, খাসকাউলিয়া ও জোতপাড়া। বাঁধের নির্মাণ কাজ সন্তোষজনক না হওয়ায় গত বছর অন্তত ২০টি স্থানে দফায় দফায় ধস নামে। চলতি বছর তা পুনঃসংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়। এতে ভাঙন থেকে স্বস্তি পান স্থানীয়রা। তবে নদীর পানি কমতে থাকায় গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাত্ প্রচণ্ড স্রোতে বাঁধের পশ্চিম জোতপাড়া অংশে ভাঙন দেখা দেয়। যা ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত প্রায় ৫শ’ মিটারে বিস্তৃতি লাভ করে।
 
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আখলিমা খাতুন, সরবেশ আলী, দোকানি আবু সাইদ ও আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা ১৮টি পরিবার পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত। আশা নিয়ে বাঁধের পাড়ে বাড়ি করেছিলাম। যা ছিল সব শেষ হয়ে গেলো। এখন আমাদের আর কিছু রইলো না। বাঁধটির নিম্নমানের কাজ ও তদারকি যথাযথ না হওয়ায় ধসে গেলো। আমরাও সব খোয়ালাম।
 
চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হজরত আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফারুক সরকার ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, নদীতে স্রোতের তীব্রতাও অতোটা বেশি নয়। তারপরও এভাবে বাঁধের বিশাল এলাকা যমুনায় হারিয়ে যাবে আমরা কেউ ভাবিনি। বাঁধটি দ্রুত মেরামত না হলে পুরো এলাকাই হুমকিতে পড়বে।
 
এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান। তিনি অসহায় মানুষের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পাশে থাকার কথা জানিয়ে বলেন, আমরা সকল পরিবারকে আপাতত খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছি। পরে এদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান জানান, আমরা বিষয়টি শুনেছি। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু