দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঢাকামুখী প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচল করা যানবাহনের যাত্রীদের বছরজুড়েই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। প্রতিদিন সরকার এ রুট থেকে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব পেলেও ভোগান্তি লাঘবে স্থায়ীভাবে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। তা ছাড়া দুর্ভোগে পড়া যাত্রীদের নিয়ে স্থানীয় ঘাট সংশ্লিষ্টরা নানা রকম ফন্দিবাজি এঁটেই চলেছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিডমিল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারজুড়ে প্রায় ৫ শতাধিক বাস-ট্রাক ও ছোট যানবাহন আটকা পড়েছে। এ যানবাহনের লাইন প্রতিদিন দুপুর গড়ালে আরও বেড়ে যায়।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের সড়ক পথে যোগাযোগের অন্যতম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণবঙ্গের ১৯ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। এ ছাড়া এ দুই ঘাটে প্রতিদিন ছোট-বড় ৫-৬ হাজার গাড়ি ফেরিতে নদী পারাপার হয়ে থাকে। এতে প্রতিদিন সরকারের প্রায় ৭০- ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়।
বছরজুড়েই কোনো না কোনো কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে যানজটে আটকা পড়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকট, বর্ষায় নদী ভাঙন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ঘন কুয়াশাসহ সারা বছরই কোনো না কোনো সংকট থাকে। তা ছাড়া ফেরির দুর্বল ইঞ্জিন, ভাঙা পন্টুন, ঘাট নড়াচড়া, ড্রেজিং সংকটসহ হাজারো কৃত্রিম সংকটতো আছেই।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এ রুটের হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হলেও সমাধানে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। উল্টো ঘাট সংশ্লিষ্টরা যাত্রীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অবৈধ আয়ে পকেট ভারী করার ধান্দায় থাকে। এ রুটে সরকারি আয়ের চেয়ে শত গুণ বেশি টাকা অবৈধ পথে এখানকার দালাল থেকে শুরু করে সরকারের উপর মহলের বড় বড় আমলাদের পকেটে চলে যায়। যার কারণে এ ঘাটের স্থায়ী সমাধান কেউ করতে চায় না বলে ভুক্তভোগীদের ধারণা।
এ বিষয়ে আক্ষেপ করে কুষ্টিয়ার একজন ট্রাকচালক বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটের সংশ্লিষ্ট সবাই চায় সারাবছর এখানে আমরা যানজটে আটকা পড়ে থাকি। আর এ সুযোগে তারা দালালদের মাধ্যমে আমাদের কাছ থেকে ট্রাকপ্রতি ৫শ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে। সেই টাকার ভাগ এলাকার নেতা থেকে শুরু করে উপর মহল পর্যন্ত সবাই নেয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ রুটের বহরে থাকা সবগুলো ফেরি ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। ঠিকমতো চলাচল করতে পারলে যানজট কখনও থাকত না। আর তখন শুধু দৌলতদিয়া ঘাটেই ৩০ লাখ টাকা সরকারি রাজস্ব পাওয়া যায়। ফেরির ইঞ্জিন দুর্বল ও নষ্ট হওয়ার কারণে বহরে থাকা দুই/একটি ফেরি সব সময় বসা থাকে। তা ছাড়া নদীর প্রবল স্রোত, ডুবোচরে আটকা পড়ার ভয়ে ফেরিগুলো সব সময় ধীরে চলাচল করে। এতে করে ফেরির ট্রিপ অর্ধেকে নেমে আসে।
ইত্তেফাক/নূহু
