গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরে বালুর স্তরে ঢাকা পড়েছে আমন ক্ষেত

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৫৫
“বানে মোর ধান সউগ শ্যাষ করি দিছে। সর্বনাশ কইরছে মোর। কি যে কপালত হইবে।” -এভাবে কথাগুলো বলছিল চর শংকরদহ গ্রামের কৃষক জাহেদুল। এ বছর চলতি মাসের বন্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরে বালুর স্তরে ঢাকা পড়েছে আমন ক্ষেত। অনাবাদি পড়ে আছে নষ্ট হয়ে যাওয়া  কয়েকশ’ একর জমির আমন ক্ষেত। 
 
জানা যায়, চলতি মাসের বন্যা ও ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা ও ঘাঘট নদী সংলগ্ন এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধান গাছ পচে যায়। বন্যায়  উজান থেকে আসা ঢলের সাথে নেমে আসে বালু আর পলি। আর সেই বালু আর পলি জমা হয় চরাঞ্চলের  রোপণকৃত আমন ক্ষেতে। ধানের চারাগুলো তলিয়ে গেছে বালু আর পলিতে।
 
কৃষকরা জানান, এসব ধান আর হবে না। গত বছর তারা এখানে আমন লাগিয়েছিল। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ ধান হয়েছিল। এবার এক ছটাক ধানও ঘরে ওঠবে না। চরাঞ্চলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগের সবুজ তরতাজা আমন ক্ষেতগুলো বালুর নিচে তলিয়ে গেছে।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের বন্যায় এক হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। তবে প্রকৃত ক্ষতির হিসেব কৃষি অফিস এখনো নিরূপণ করেনি। 
 
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকই ব্যক্তিগত উদ্যোগে চারা লাগিয়েছে। আর যারা লাগায়নি তারা আগাম রবি ফসল চাষ করবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু