ভাঙন রক্ষায় লোহাগাড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন!

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:০০
লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের রাজঘাটা এলাকায় ভরাট ও ভিন্নপথে প্রবাহিত হওয়া টঙ্কাবতী খালের অংশ স্বেচ্ছাশ্রমে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে কাটা শুরু হয়।
 
গত বৃহস্পতিবার  উক্ত খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার পদ্মাসন সিংহ। স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচিতে এলাকাবাসীরা অংশগ্রহণ করে। টানা বর্ষণে এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার্থে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান।
 
জানা গেছে, চরম্বারা টঙ্কাবতী খাল সংলগ্ন  রাজঘাটার দলিলুর রহমান বাড়ি ও মাঝেরপাড়া এলাকায় ৬শ’ পরিবার রয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে উক্ত এলাকার পরিবারগুলো টঙ্কাবতী খাল ভাঙনের হুমকির মুখে পড়ে। প্রতিবারের টানাবর্ষণে বাড়িঘর খালগর্ভে বিলীন এবং রাস্তাঘাট ভেঙে যায়।
 
সম্প্রতি টানাবর্ষণে ২৪ ঘরবাড়ি খালগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং ৩শ’ পরিবার ভাঙনের মুখে পড়েছে। চরম্বা-কলাউজান সংযোগ সড়ক ভেঙে গিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
 
 এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিবারের টানাবর্ষণে তাদের ঘরবাড়িসহ রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবিরাম বৃষ্টি ও খালের স্রোত বৃদ্ধি পেলে তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। তাদের এলাকার টঙ্কাবতী খাল অংশ খননের উদ্যোগ নেয়ায় তারা খুশি।
 
সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য এনামুল হক জানান, রাজঘাটার দলিলুর রহমান ও মাঝেরপাড়া এলাকার টঙ্কাবতী খাল ভরাট ও খালের গতিপথ ভিন্নপথে প্রবাহিত হওয়ার ফলে প্রতিবারের টানা বর্ষণে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকাবাসী, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে দলিলুর রহমানের বাড়ির পাশ থেকে  টঙ্কাবতী খাল অংশ স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কাটা শুরু হয়।
 
 এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহমান জানান, চরম্বা রাজঘাটা এলাকার মাঝেরপাড়া, দলিলুর রহমান বাড়ির পার্শ্বস্থ টঙ্কাবতী খালের অংশ ভেঙে গিয়ে প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতোমধ্যে ৭০ পরিবার  ভাঙনের শিকার হয়েছে এবং রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঐ অংশে খাল ভরাট ও  খালের গতিপথে প্রবাহিত হওয়ায় টানাবর্ষণ ও প্রবল স্রোতে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার মাটি কাটে।
 
 উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম জানান, সম্প্রতি টানাবর্ষণে টঙ্কাবতী খালের ভাঙনে চরম্বা রাজঘাটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরেজমিনে গিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন বহু বছর ধরে এলাকাবাসী টঙ্কাবতী খালের ভাঙনের শিকার হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু