হিন্দু ধর্মাবলীর সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই পূজাকে সামনে রেখে পাল পাড়ায় ব্যস্ত প্রতিমা কারিগর। উল্লাপাড়ায় প্রতিমা শিল্পীদের নান্দনিক ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দুর্গা, কার্ত্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, অসুর ও দেবতাদের বাহক সিংহ, ময়ূর, হাঁস,প্যাঁচা ও ইঁদুর।
আর এই প্রতিমা তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহিত হচ্ছে এঁটেল মাটি, বাঁশ, কাঠ, খড়, পাটের আঁশ ও রঙ দিতে প্রতিমার সৌন্দর্য বর্ধন করছে প্রতিমা কারিগর।
শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র ২ সপ্তাহ বাকী আছে, হিন্দুধর্মাবলীরা মনে করেন প্রতিবছর এই দিনে দুর্গা মা পৃথিবীতে আসেন সমস্ত অশুভ ও অসুর শক্তিকে ধ্বংস করা জন্য। পৃথিবীতে সকল অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করে শান্তি বিরাজ করতে দুর্গার আগমন।
উল্লাপাড়া পৌরসভাধীন বরোইয়া পালপাড়ার প্রতিমা কারিগর দুলাল চন্দ্র পাল জানান, তিনি ২৫ বছর যাবৎ প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। তার বাবা মৃত্যু গোবিন্দ চন্দ্র পালের কাছ থেকে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শিখছেন।
বংশগতভাবে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছে প্রায় ১শ’ বছর হলো। তার সঙ্গে প্রতিমা তৈরির কাজ করে তার স্ত্রী অলকা রাণী পাল মা বাবার প্রতিমা তৈরি কাজে সহযোগিতা করে তার ছেলে ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র রামপ্রসাদ পাল, তিনি জানান এখন লেখাপড়া নাই তাই মা-বাবার কাজে সহযোগিতা করছি। যখন স্কুল ছুটি হয় তখন বাবার কাজে সাহায্য করি।
প্রতিমা শিল্পী দুলাল চন্দ্র পাল জানান, প্রতিবছরের চেয়ে এবছর প্রতিমা তৈরির উপকরণগুলোর দাম বেশি তাই প্রতিমা বিক্রি করতে হবে বেশি মূল্যে। গত ৪ মাস যাবৎ কাজ করে তিনি ৮ সেট প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে এখন শুধু রঙ দেওয়া বাকী আছে। রঙ দেওয়া হলেই দেবী মায়ের সৌন্দর্য পূর্ণতা ফিরে পাবে। তিনি জানান, এই পূজায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে প্রতিমা বিক্রি করবে।
উল্লাপাড়া উপজেলায় পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, শ্রী বাবলু কুমার ভৌমিক জানান শারদীয় দুর্গা পূজায় এ বছর ৯৩টি মণ্ডপ বসবে সকল মণ্ডপে ডেকোরেশনের কাজ চলছে, প্রতি বছর সরকারি অর্থ বরাদ্দ আসে তাই পূজা অনেক ভালো হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
