গাংনীর বাওট গ্রামের স্কুল ছাত্রীর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আজও গ্রেপ্তার হয়নি দুই যৌন নিপীড়ক নাহিদ ও রাফিদ। ১০ দিন পার হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী ঐ স্কুল ছাত্রীর পরিবার, শিক্ষক, এলাকাবাসী ও তার সহপাঠীরা। এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত দুই নিপীড়ককে গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
মামলার বাদী ও ছাত্রীর চাচা ছাতিয়ান গ্রামের রতন আলী জানান, পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে আসামিরা প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আসামিদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাওট সোলাইমানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন জানান, অভিযুক্ত দুজন নাহিদ ও রাফিদ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় শিক্ষকদের মতো শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ইতিমধ্যে মানববন্ধন করা হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে আবারো রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ার কারনে অন্য শিক্ষার্থীরাও স্কুলে আসতে ভয় পাচ্ছে। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। আবার এ ধরনের কোন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটে কি না।
তিনি আরো বলেন, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ থেকে বিরত থাকবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। দ্রত মামলার আসামি বাওট সোলাইমানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছাতিয়ান গ্রামের ফজলুল রহমানের ছেলে নাহিদ ও মটমুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাওট গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছেলে রাফিদকে গ্রেপ্তার করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার বাওট গ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঐ ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং ২৮ তাং ২২/০৯/১৮ ইং।
ইত্তেফাক/নূহু
