সালিশে বাধ্য করায় ২ মাতুব্বরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৩৩
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে উপজেলার চর নূরনগর তালপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী গৃহবধূ (২৮) বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার কামারখন্দ থানায় উপজেলার চর নূরনগর তালপাড়া গ্রামের গৃহবধূ ধর্ষণের চেষ্টা, সহযোগিতা ও ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে সালিশে বাধ্য করায় ২ মাতুব্বরসহ তিন জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 
মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চর নূরনগর তালপাড়া গ্রামের বাদশা সেখের ছেলে মেহের মণ্ডল (৫০), একই গ্রামের আজহার মণ্ডলের ছেলে স্থানীয় মাতুব্বর হায়দার আলী সেখ (৪৫), মৃত জব্বার শেখের ছেলে স্থানীয় চিকিৎসক ও মাতুব্বর সারোয়ার আলম (৩৫)।
 
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চর নূরনগর তালপাড়া গ্রামে চলতি বছরের গত ১লা সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে না থাকায় বাদশা শেখের ছেলে মেহের মণ্ডল গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ঐ গৃহবধূর চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে মেহের মণ্ডলকে আটক করে। পরে স্থানীয় মাতুব্বর হায়দার আলী ও সারোয়ার আলম রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধর্ষণের চেষ্টা করা মেহের মণ্ডলের বিচার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে।
 
পরে মামলার আসামি স্থানীয় মাতুব্বর হায়দার আলী ও সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে ভদ্রঘাট ইউনিয়নে ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার, ওই গ্রামের বাসিন্দা লিন্টু শেখ, আব্দুল ওয়াহাব, লুৎফর রহমান বাবু, মোহাম্মদ আলী মেম্বার বিষয়টি মিমাংসার জন্য গ্রাম্য শালিশ করে মেহের মণ্ডলকে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার ২ লাখ টাকা গৃহবধূকে প্রদান করে বাকী ২ লাখ টাকা মাতুব্বররা ভাগবাটোয়ারা করেছে বলে অভিযোগ করেছে গ্রামবাসী।
 
এ বিষয়ে মামলার অন্যতম আসামি স্থানীয় চিকিৎসক ও সালিশের মাতুব্বর সারোয়ার আলমের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাসের মধ্যে আছি এই বলে ফোন কেটে দেন।
 
কামারখন্দ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পলাশ চন্দ্র দেব জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ। মামলার এফআইআর ভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ