চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে আখ চাষের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি। যতটুকু ফলন হয়েছে কাংক্ষিত দাম পাচ্ছে না কৃষকেরা। মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করায় হাসি নেই অনেক কৃষকের মুখে। বিগত বছরে যেখানে ছোট ভ্যান বা থ্রি হুইলার দিয়ে তারা জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ক্ষেত থেকে নিয়ে আখ বিক্রি করতে পারতো তা এখন পারে না। বাধ্য হয়ে ক্ষেত থেকে পাইকারদের কাছে বিক্রয় করতে হচ্ছে।
পিকআপ, ট্রাক ভাড়া করতে অনেক টাকা খরচ পড়ে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে আখ ক্রয় করে ট্রাক বা পিকাপ ভাড়া করে বিভিন্ন হাটবাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বোম্বাই, প্রেয়শী, ইশ্বরদী-১৬-১৭ নোয়াটিসহ স্থানীয় ৫২৭টি জাতের আখ চাষ হয়। ২০১৮-১৯ সালে জেলায় আখ আবাদের লক্ষ মাত্র ছিল ১৩৭৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৭৬৬ হেক্টর। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় আখ আবাদ হয়েছে ১৮৭ হেঃ, হওয়ার কথা ছিল ৩২ হেঃ। সিংগাইর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৪৯৩ হেঃ, হওয়ার কথা ছিল ৭০০ হেঃ। সাটুরিয়ায় ২১ হেঃ, হওয়ার কথা ছিল ৫০ হেঃ। ঘিওর ১৩ হেঃ হওয়ার কথা ছিল ৫০ হেঃ। দৌলতপুরে ১০ হেঃ, হওয়ার কথা ছিল ৫০। শিবালয়ে ৪৭ হেঃ হওয়ার কথা ছিল ১০০ ও হরিরামপুর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ০ হেঃ হওয়ার কথা ছিল ১০০ হেঃ আখ।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড গ্রামের চাষী আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি এবার ৯০ শতাংশ জায়গার উপর গেন্ডারী জাতের আখের চাষ করেছেন। গত বছরে তিনি ভ্যানে করে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে আখ বিক্রয় করতেন। কিন্তু মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধের কারণে এবার সেটা করতে পারছেন না।
সিংগাইর উপজেলার বায়রা এলাকার রফিক মিয়া। তিনি এবার ৭০ শতাংশ জায়গার ওপর আখ চাষ করেছেন। এখানে তার ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি আগে ভ্যানে করে যেখানে তিনশত থেকে চারশত টাকার মধ্যে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারের বিক্রি করতাম। এখন সেখানে তাদের ট্রাক বা পিকাপ ভাড়া করতে গেলে সর্বনিম্ন ছয়শত থেকে এক হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই আমার বাধ্য হয়ে ক্ষেত থেকে কম দামে পাইকারী দরে বিক্রয় করছি।
শিবালয় উপজেলার আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, এ বছর আমরা ১৪ থেকে ২০ টাকা দরে প্রতিটি আখ বিক্রি করছি। কিন্তু পাইকাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিটি আখ বিক্রয় করছে ২০ থেকে ৪০ টাকা। আমরা যদি পাইকারদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে আখ বিক্রি করতে পারতাম তাহলে আমরা আরো লাভবান হতাম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান চৌধুরী জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবার আখের ভালো ফলন হয়েছে। আখের লালপচা রোগের পরিমাণ অনেক কম। তবে সরকার বৃহত্তর স্বার্থে মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। যাতে করে দুর্ঘটনা কম হয়।
লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ার পেছনে আবহাওয়াজনিত কারনে কৃষকরা ভিন্ন ফসল চাষে ঝুঁকে যাওয়ার কথা বলছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
