চট্টগ্রামে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ‘একুশে পত্রিকা’র সম্পাদক আজাদ তালুকদারের বিরুদ্ধে নিজের থানায় ‘সাধারণ ডায়েরি’ (জিডি নাম্বার ৮৪৩, তারিখ- ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮) করেছেন বোয়ালখালী থানার ওসি সাইরুল ইসলাম। জিডি একটি কপি একুশে পত্রিকার কাছে পাঠানো হলেও এতে ওসির সীল-স্বাক্ষর ছিলন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘সরকারি গাড়ি নয়, কর্মস্থলে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঘোরেন ওসি!’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা। এতে উল্লেখ করা হয়, বোয়ালখালী থানার নতুন ওসি সাইরুল ইসলাম সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করছেন। এছাড়া বোয়ালখালীতে যোগদানের আগে ওসির কক্ষে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) লাগান সাইরুল। ওই প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয়েই ওসি নিজের থানায় সাংবাদিক আজাদ তালুকদারের বিরুদ্ধে এ ‘জিডি’ রেকর্ড করেন।
জিডিতে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে ঘোরার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে ওসি লিখেছেন, ‘আমার গাড়ি হিসেবে যে গাড়িটি ব্যবহার করছি মর্মে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা আমার ছোটভাই সাইফুল ইসলাম-এর ব্যবহৃত নিজস্ব গাড়ি। যা কয়েকদিন আগে আমার ছোটভাই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার পর গাড়িটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গাড়িটি মেরামতের জন্য আমার কাছে রেখে যান।
নিজের কক্ষে এসি লাগানোর বিষয়ে জিডিতে ওসি লিখেছেন, ‘পূর্ব থেকে থানার রেস্ট রুমে থাকা এসিটি স্থান বদল করে আমার অফিসকক্ষে লাগানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রে কারো থেকে কোন প্রকার দান বা অনুদান গ্রহণ করা হয় নি।’
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নুরে আলম মিনা বলেন, ‘এরকম জিডিতে কিছু আসে যায় না। জিডি তার (ওসি) হাতে আছে, সে করতেই পারে। এতে কোনো সমস্যা নাই। সে ছুটিতে গেছে। ছুটি থেকে ফিরলে আমি জিডির কপিটাও আনবো। আর এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। বিষয়টা দেখছি।’
এদিকে সাংবাদিক আজাদ তালুকদারের বিরুদ্ধে ওসি সাইরুলের জিডি করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দিন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, নির্বাহী সদস্য রুবেল খান ও আজহার মাহমুদ।
ইত্তেফাক/বিএএফ
