ভাঙা কংক্রিট, ইট-সুরকি, দুমড়ে-মুচলে যাওয়া বাড়িঘর, উল্টে যাওয়া মাছধরা নৌকো। বাতাসে কেমন একটা গন্ধ। নিকটবর্তী মেডিক্যাল ক্লিনিকটার দিকে গেলেই দেখা যায় সব মৃতদেহগুলো সার বেঁধে রাখা। বুঝতে অসুবিধে হয় না, গন্ধটা এখান থেকেই আসছে। এই চিত্রটি ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরের। যে ভুমিকম্প থেকে সুনামি সেটার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৫। তার আঘাত কত জোরদার ছিল তা বোঝা যায় চারদিকের ধ্বংসের মাত্রা আর লাশের গন্ধে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পালু শহরটি যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একটি ক্রিশ্চিয়ান আশ্রয় কেন্দ্রে ৩৪ শিশুর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, পালুর অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিন দিনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে। মূল রাস্তা ধ্বসে পড়ায় ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতীয় দুর্যোগ বিভাগের মুখপাত্র সুতোপো পুর্বো নুগরোহো জানিয়েছেন, যোগাযোগের ব্যবস্থা যেমন সীমিত, তেমনি যন্ত্রপাতিও সীমিত। এত পরিমাণ ভবন ধ্বসে পড়েছে এত কম যন্ত্রপাতি দিয়ে সেগুলো সরানো সম্ভব নয়। ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসের কর্মকর্তা ইনি সুরবানি জানান, বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা চলছে। একদিকে মূল রাস্তা ধ্বসে পড়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুত্ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। জীবিতরা বের হয়েছেন খাদ্যের সন্ধানে। অনেকে দোকানে লুট করছেন খাবার, তেল এবং পানির জন্য। পালুর একটি পাহাড়ে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে উদ্ধারকর্মীরা ধারণা করছেন। সেখানে ১৩শ’ মানুষ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকে করে মৃতদেহ বিভিন্ন রংয়ের পলিথিনে মুড়ে আনা হচ্ছে। একসঙ্গে অনেককে কবর দেওয়া হচ্ছে।
জেল থেকে পালালো বন্দিরা
সুলাওয়েসি দ্বীপে জেল ভেঙে পালিয়েছে অন্তত ১২শ’ বন্দি। ইন্দোনেশিয়ার ন্যায়মন্ত্রণালয়ের অফিসার শ্রীপুগুহ উতমী গতকাল জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর পালুর একটি জেল থেকে প্রায় ৬শ’ বন্দি পালিয়েছে। ১২০ জনের জন্য তৈরি হওয়া ওই জেলে মোট ৫৮১ জন বন্দি ছিল। তিনি বলেন, পালুর আরেকটি জেল থেকেও প্রধান ফটক ভেঙে পালিয়ে যায় বন্দিরা। ডংগালার একটি জেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়েছে ৩৪৩ জন বন্দি। তিনি জানান, যেসব বন্দি জেলে আছে তাদের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
