উল্লাপাড়ায় পুলিশের হাত থেকে হাতকড়া পড়া অবস্থায় জামায়াত নেতা ছিনতাইয়ের পর তিন তির পার হয়েছে। জামায়াতের ওই নেতাকে ধরা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এই ঘটনার পর থেকে র্যাব-১২ ক্যাম্পের সদস্যদের সহযোগিতায় ছিনতাই হওয়া জামায়াত নেতাকে খুঁজে বের করতে দিন রাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনায় উল্লাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক রিপন সাহার দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সোমবার রাতে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় মঙ্গলবার রাত ও বুধবারে। এরা হলেন উপজেলার ঘাটিনা গ্রামের নাজমুল হোসেন (২৮), কৃষ্টপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (৩৫), কয়ড়া চরপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেন (৫০), বড়হর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সংম্পাদক শফিকুল ইসলাম ঠান্ডু (৩৫), সড়াতলার মনছুর রহমান (৪০), আফজাল হোসেন (৬৫), রেজাউল করিম (৪৫), আব্দুল লতিফ (২৮), বাবলু মিয়া (৪০), কয়ড়া খামারবাড়ীর ইউসুফ আলী (২৮) ও মঞ্জু হোসেন (২৭), ভেংড়ী গ্রামের শাহীন আলম (২৫), শাহাদৎ হোসেন (৩৮), রবিউল করিম (২২), রেজাউল করিম (৪০) ও রুহুল আমিন (২০)।
এদিকে জামায়াত নেতা ছিনতাইয়ের মামলায় নামে বেনামে মোট ২২৩ জনকে আসামি করায় ভয়ে আতংকে গ্রেপ্তার এড়াতে কয়ড়া চরপাড়া গ্রামটি এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রাম ছেড়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ সকল পুরুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন গৃহবধু জানান, পুরুষশূন্য বাড়িতে রাতে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিয়ে তাদের থাকতে হচ্ছে। চরম আতংকে রয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান কউশিক আহমেদ জানান, পুলিশ ছিনতাই হওয়া জামায়াত নেতা আলাউদ্দীনকে গ্রেপ্তারের সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশি অভিযানে নিরাপরাধ কোন ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে পুলিশ সজাগ দৃষ্টি রাখছে। পুরুষশূন্য কয়ড়া চরপাড়া গ্রামের মহিলাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন গ্রামের সকল মহিলার পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করবে পুলিশ।
গত সোমবার উপজেলার কয়ড়া চরপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম খোকার বাবার জিয়ারত অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে এসে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন আল আজাদ গ্রেপ্তার হন। এ সময় পুলিশের হাত থেকে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও শিবিরকর্মীরা তাকে ছিনিয়ে নেয়।
ইত্তেফাক/নূহু
