গত ২০১০ সালের অক্টোবরে পীরগঞ্জ হাসপাতাল ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উদ্বোধনের ৮ বছর পার হলেও ৫০ শয্যার জনবল, সাজ-সরঞ্জাম, ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি ইত্যাদির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। ৮ বছর যাবত অনুমোদনের বিষয়টি ঝুলে আছে। এজন্য সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের এবং জনপ্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দোষারোপ করছেন। এ কারনে চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার সরকারি অঙ্গিকার পীরগঞ্জ উপজেলার ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পীরগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য রয়েছে উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল। এ হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট ও রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি প্রভৃতি যন্ত্রপাতির অভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পীরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ।
জানা যায়, ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী পীরগঞ্জ উপজেলা হাসাপাতালে ১১টি চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন ২০আগস্টে যোগদান করেন। তিনি মূলতঃ অফিসিয়াল কাজ ও মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। রোগী দেখা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডাঃ নজরুল ইসলাম, মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ শেখ মোহাম্মদ জুবায়ের ও ডেন্টাল সার্জেন সুলতানা তাহমিদা আশরাফী, ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস ও ডাঃ আসমাউল ইসলাম কে দিয়েই চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি। আরেকজন ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস ও ডাঃ আসমাউল ইসলাম মাত্র মাস খানেক আগে এ বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অত্র হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে যোগদান করেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হাসাপাতালে বর্তমানে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) এবং সার্জারি, মেডিসিন, শিশু ও এনেসথেসিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের ৪টি পদ মিলে মোট ৫টি পদে কোন চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা সেবা চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ইমার্জেন্সি বিভাগে কোন মেডিকেল অফিসারের পদ নেই। তবে সেকমোর ২টি পদে কর্মরত গোলাম মোস্তফা ও সারা হেমব্রম ছাড়াও পীরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেকমো রেজিনা খাতুনকে উপজেলা হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। তারাই পালাক্রমে ইমার্জেন্সি বিভাগ দেখভাল করছেন।
এদিকে হাসপাতালে রোগী গেলেই ‘রেফার’ করা হচ্ছে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল অথবা দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। পীরগঞ্জ হাসাপাতাল থেকে বেতন দেওয়া হলেও এক্স-রে টেকনিশিয়ান আব্দুর রাজ্জাক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সিনিয়ার স্টাফ নার্স রেখা রানী রায় ও তাজনিহার বেগম ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে, শেফালী বেগম রানীশংকৈল উপজেলা হাসপাতালে এবং রেহেনা বেগম ও সাবেরা খানম ঠাকুরগাঁও নার্সিং ইন্সটিটিউটিটে প্রেষনে কর্মরত থাকায় পীরগঞ্জ উপজেলাবাসী এদের সেবা থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত।
এছাড়া উপজেলার ভোমরাদহ ও জাবরহাট উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসারের ২টি পদ এবং কোষারানীগঞ্জ, খনগাঁও, সৈয়দপুর, পীরগঞ্জ, হাজীপুর, দৌলতপুর, সেনগাঁও ও বৈরচুনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সহকারী সার্জনের ৮টি পদও দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে। ফলে ১০টি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষকে চিকিৎসার জন্য ছুটতে হচ্ছে পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে। যদিও সেকমো জুবায়ের আহম্মেদ ও নুরুজ্জামান যথাক্রমে ভোমরাদহ ও জাবরহাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু ৬ জন চিকিৎসক ও ৫ জন সেকমোর পক্ষে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আরশাদ হোসেন বলেন, ৫০ শয্যার অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজী, চক্ষু, চর্ম ও যৌন এবং নাক-কান গলা বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট এর ৫টি পদ ও সহকারী সার্জনের ৫টি পদ ছাড়াও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপী), হেলথ এডুকেটর, কার্ডিওগ্রাফার এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৪টি পদ মিলে মোট ২৭টি পদ সৃষ্টি করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লেখা হয়েছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের জন্যেও আবেদন জানানো হয়েছে। ডাঃ আসমাউল ইসলামকে দিয়ে সপ্তাহে ১দিন আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং প্যাথোলজিক্যাল টেস্ট হাসপাতালের ল্যাব-এ করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু
