রোহিঙ্গা ইস্যু

মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ইইউ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৩৯
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্লক ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশটি ইইউতে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় তা বাতিল করা হবে। ইইউ’র তিনজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
 
কর্মকর্তারা জানান, ইউরোপিয়ান কমিশনে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারের টেক্সটাইল শিল্প এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বে। এর ফলে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারাতে পারে। তবে এখনই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না। ছয় মাসের সময় নেওয়া হচ্ছে। মিয়ানমার যদি মানবিক এবং গণতান্ত্রিক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় তাহলে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। ইইউ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা মিয়ানমারের পোশাক শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস করতে পারে, বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্পে। অনেক ইইউ বিনিয়োগকারীও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা মিয়ানমারে সস্তা শ্রমের বিনিময়ে পণ্য উত্পাদন করেন। উল্লেখ্য, বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কথা বললেও তালবাহানা করছে মিয়ানমার।
 
গত আগষ্টে জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে জানায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। পরে ইইউ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এখন সামরিক বাহিনীর দু’টি ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পরিকল্পনা করছে ইইউ। ইইউ কমিশনে বিতর্কে উপস্থিত ছিলেন এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের পদক্ষেপে মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদন তো আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না। ইউরোপের বাণিজ্যিক নীতি কী হবে তাই এই কমিশন নির্ধারণ করে। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ থায়ে টেলিফোনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত মাসে তিনি বলেছিলেন, টেলিফোনে তিনি কোনো সাক্ষাত্কার দেবেন না।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি