কবিরাজের চেতনানাশক খেয়ে স্ত্রীর মৃত্যু, হাসপাতালে স্বামী

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৪৯
যশোরের চৌগাছায় অজ্ঞাত পরিচয় কবিরাজের চেতনানাশক খেয়ে দিলরুবা বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানকে মনু মাস্টার (৭০) অজ্ঞান অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের আন্দারকোটা গ্রামের বাসিন্দা। 
 
তাদের একমাত্র ছেলে মাসুদ রানা মালয়েশিয়া প্রবাসী আর এক মেয়ে লিপি আমেরিকায় বসবাস করেন। স্বামী-স্ত্রী কয়েক বছর যাবৎ আমেরিকায় মেয়ের কাছে ছিলেন। সম্প্রতি বাড়িতে এসে প্রবাসী পুত্র বধূকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছিলেন তারা। 
 
মনু মাস্টারের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, রবিবার সকালে হঠাৎ কিছুটা চেঁচামেচি শুনে নিহতের বাড়ি এসে দেখি চাচা এবং চাচি উভয়েই ঘরের মেঝেতে শুয়ে আছেন। তারা বারবার বাথরুমে যাচ্ছিলেন এবং তাদের গায়ে কিছুটা ময়লা লেগেও ছিল। এ অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে দুপুরে তাদের যশোর জেনারেল রেফার করা হয়। যশোর হাসপাতালে যাওয়ার পথে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চাচি দিলরুবার মৃত্যু হয়। চাচা মনু মাস্টার যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তবে তার জ্ঞান এখনও ফেরেনি। 
 
প্রতিবেশী সেলিনা বেগম বলেন, নিহতের বাড়িতে একজন অপরিচিত কবিরাজ আসতেন। তার পরিচয় আমরা কেউ জানি না। শুনেছি অপরিচিত এই লোকটি নিহত মোস্তাফিজুর রহমানের ধর্ম আত্মীয় ছিলেন।
 
একাধিক প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নিহতের মেয়ে লিপি আমেরিকা থাকেন। সেখান থেকে গতকাল বেশ কিছু টাকা পাঠিয়েছেন তিনি। সকালে মনু মাস্টার চৌগাছার একটি ব্যাংক থেকে সেই টাকা উত্তোলন করেন। 
 
দিলরুবার পুত্রবধূ নার্গিস বেগম জানান, আমি সকাল সাতটার সময় ছেলে এবং মেয়েকে নিয়ে চৌগাছায় স্কুলে যাই। চার ঘণ্টা পরে খবর পাই আমার শ্বশুর এবং শাশুড়িকে চৌগাছা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে যশোর হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাশুড়ির মৃত্যু হয়। 
 
ধর্ম আত্মীয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গার দিকে কোথাও তার বাড়ি হবে। আমার শ্বশুর এবং শাশুড়ি তার সঙ্গে মাঝে মধ্যে মোবাইলে কথা বলতেন। গত রাতেও আমার শ্বশুর তার সঙ্গে কথা বলেন। সেসময় মেয়ে টাকা পাঠিয়েছে একথাও বলতে শুনেছি। 
 
চৌগাছা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত আব্দুল হাই জানান, তাদের চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থা হওয়ায় তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
 
স্বরূপদাহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ