আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের যে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে সেটির পর্যালোচনায় হতাশ অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। যেই সাত-আটটি আসনে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছাড় পাওয়ার বিষয়ে আগে যুক্তফ্রন্ট ইঙ্গিত পেয়েছিল, সেটির সঙ্গে হিসাব না মেলায় হতাশা নেমে এসেছে বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টে।
বিকল্পধারার দায়িত্বশীল একাধিক নেতা গতকাল রবিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মাহী বি. চৌধুরী, সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানিবাজার) আসনে সমশের মবিন চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর-দক্ষিণ মানিকগঞ্জ) আসনে গোলাম সারোয়ার মিলন, সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে এইচএম গোলাম রেজা, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে এমএম শাহীন ও নীলফামারি-১ আসনে যুক্তফ্রন্ট শরিক বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণিকে মহাজোটের মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মোটামুটি সংকেত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মানিকগঞ্জ-২ আসনে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, সিলেট-৫ আসনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাতক্ষীরা-৪ আসনে এসএম জগলুল হায়দার ও নীলফামারি-১ আসনে আফতাব উদ্দিন সরকারকে গতকাল দলীয় মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তর করেছে আওয়ামী লীগ। বাকি তিনটি আসনে অবশ্য আওয়ামী লীগ দলের কাউকে গতকাল চিঠি দেয়নি।
জানা গেছে, বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি. চৌধুরী গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলে দলের ও যুক্তফ্রন্টের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন। আজ সোমবার মহাজোটের যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কথা রয়েছে তাতে যুক্তফ্রন্টকে যেন ৮ থেকে ১০টি আসন দেওয়া হয়, মাহী তাকে সেই অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক গোলাম সারোয়ার মিলন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন, তারা দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দিলেও সঙ্গে প্রত্যাহারপত্রেও স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছেন। সেই কারণে আমরা আশা করছি শেষ পর্যন্ত আমরা সম্মানজনক আসনে ছাড় পাবো। এরপর নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এই কারণে আমরা এখনই হতাশ হচ্ছি না।’
