মাসাধিককাল নিখোঁজ থাকা আলমডাঙ্গার স্কুলছাত্রী তহুরাকে অবশেষে পুলিশ খুঁজে পেয়েছে। সোমবার রাতে ঢাকার গাবতলীর একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসআই নিজাম উদ্দিন তহুরাকে উদ্ধার করেন। আজ তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষা করার জন্য।
তহুরার ভাষ্যমতে তার কথিত প্রেমিক সবুজ তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার ওই বাড়িতে রেখে উপুর্যূপরী ধর্ষণ করে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছে।
সবুজ আলমডাঙ্গার হাড়গাড়ী গ্রামের তহিবুল ইসলামের ছেলে। আর তহুরা পাইকপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র লুৎফর রহমানের মেয়ে। সে পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।
জানা যায়, স্কুলছাত্রী তহুরাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ভণ্ড প্রেমিক সবুজ গত ঈদুল আযহার ৩ দিন আগে তাকে নিয়ে যায়। সে ঢাকার গাবতলীর একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। এরপর দিনের পর দিন লম্পট সবুজ তহুরাকে ধর্ষণ করতে থাকে। এর সপ্তাহখানেক পর সবুজ ওই বাড়িতে তহুরাকে রেখে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আবার গ্রামের বাড়ি হাড়গাড়ী ফিরে আসে।
এর কদিন পর সবুজ আবারো ঢাকার ওই বাড়িতে গিয়ে ওঠে। সে বিয়ে করছি বলে বলে প্রায় ২৫ দিন ধরে তহুরাকে ধর্ষণ করতে থাকে। সবুজের এই অপকর্মের সঙ্গে জুয়েল ও রোকসানা নামের একটি মেয়ে জড়িত বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে ভন্ড সবুজ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তহুরাকে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজও জুটিয়ে দেয়। এরপর সে প্রতারণা করে আগে থেকেই লাইন-ঘাট ঠিক করে রাখা দিন অনুযায়ী ইরাকে চলে যায়।
ছাত্রীর পিতা লুৎফর রহমান সবুজকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে, ‘আলমডাঙ্গার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী তহুরা কোথায়?’ শিরোনামে ইত্তেফাক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর পুলিশ একেরপর এক চাপ দিতে থাকে সবুজের পিতা তহিবুলকে। প্রথমে কিছুই জানি না বলে জানালেও পুলিশের চাপের মুখে অবশেষে তিনি তহুরার অবস্থান পুলিশকে জানাতে বাধ্য হন।
এদিকে, তহিবুল তার ছেলেকে দিয়ে একটি হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েকে এভাবে পাশবিক নির্যাতনে সহায়তা করায় পাইকপাড়া গ্রামে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ ব্যাপারে, আলমডাঙ্গা থানার প্রধান কর্মকর্তা আবু জিহাদ খান জানান, সবুজ তার কথিত প্রেমিকা তহুরাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তহিবুল সব জানতেন। কিন্তু তিনি পুরোটা অস্বীকার করে আসছিলেন।
তিনি আরো জানান, এ অপকর্মের সঙ্গে আরো কয়েকজন জড়িত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
ইত্তেফাক/নূহু
