মশার উপদ্রবে সাভারে জনজীবন অতিষ্ঠ, ডেঙ্গুতে ছাত্রীর মৃত্যু

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০৯
সাভারে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিন রাতে সব সময় মশার কামড়ে নাজেহাল সাভারবাসী। দিনেও অফিস, বাসা বাড়িতে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। আর একটু সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে আরো কয়েক গুন। কিন্তু মশা নিধনে জন্য প্রতিবছর বাজেট থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। 
 
এক সপ্তাহ পূর্বে সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী সুজানার মশার কামড় থেকে ডেঙ্গু জ্বর হয়। পরবর্তীতে ডেঙ্গু থেকে শক-সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়। এর প্রভাবে তার হার্ট, কিডনি ও লিভারে সমস্যা দেখা দেয়। ৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় গত মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, মশার কামড় থেকে ডেঙ্গুর প্রভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে। 
 
সাভার পৌর এলাকাবাসীর সঙ্গে  কথা বলে জানা গেছে, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই  মশার উপদ্রব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। কয়েল, স্প্রে বা মশারি টাঙ্গিয়েও মশার উৎপাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। কেউই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।  
 
সাভার উপজেলাটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় মিল ও কলকারখানার দূষিত বর্জ্য, বিভিন্ন স্থানের জমে থাকা নোংরা পানি এবং যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলায় এ অঞ্চলটি মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসানো ডাস্টবিন ও আবর্জনা ফেলার স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার বিস্তার ক্রমশ বাড়ছেই। আর এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। তাছাড়া মশার উৎপাতে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশুনাও চরম ব্যাঘাত ঘটছে।
 
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সারাদিন মশার উপদ্রব থাকলেও সন্ধ্যার পর পরই এই উৎপাত আরো বৃদ্ধি পায়। ফলে সন্ধ্যায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে বা স্প্রে  করে শিক্ষার্থীদের পড়তে বসতে হচ্ছে। এমনকি মশার উৎপাতে নাজেহাল হয়ে মশারি টাঙ্গিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করতে হচ্ছে। অনেকই মশার কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। 
 
গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সাভার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মশার কামড়ে আক্রান্ত অ্যানোফিলিশ, ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশী। 
 
সাভার পৌরসভার মশা নিধনের জন্য এ বছর ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু মশা নিধনে বাজেট থাকলেও নিধন কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। 
 
সাভার পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কাজী আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, কয়েকটি ওয়ার্ডে মশার ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। তাছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধ পৌরসভার বাইরে হলেও ভিআইপি আগমনের সময় পৌরসভা কর্তৃপক্ষই সেখানে মশার ওষুধ স্প্রে করে থাকে। তিনি বলেন, পৌর এলাকায় ১০ লাখ লোকের বসবাস। মশা নিধনের জন্য ৫ লাখ টাকা অপ্রতুল। 
 
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমজাদুল হক জানান, ঋতু পরিবর্তনের সময় মসার বংশবিস্তার হয়। এসময় মশার কামড় জনিত রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। এজন্য সকলকে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ