২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে অসন্তোষ রেজিয়ার সন্তানরা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:০৩
২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় নিহত মায়ের হত্যাকারীদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রেজিয়া বেগমের প্রতিবন্ধী ছেলে নুরুন্নবী ও হারুন আর রশিদ। তারা বলেন, দীর্ঘদিন পরে এই মামলার রায়ে মায়ের হত্যাকারীদের সাজা হওয়ায় আমরা দুই ভাই এবং আমাদের সন্তানরা খুব খুশি হলেও তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ডের রায় না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছি।
 
বুধবার কথা হয় ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় নিহত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ণ গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিয়া বেগমের ছেলের সঙ্গে।
 
আক্ষেপ নিয়ে রেজিয়া বেগমের ছেলে নুরুন্নবী বলেন, প্রথম দুই বছর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী পালনে এগিয়ে এলেও এখন আর কেউ তাদের খোঁজ রাখেনা। স্থানীয় ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ থেকে করা হয়না কোন সহযোগিতা।
 
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান রেজিয়া খাতুন। দীর্ঘদিনেও মেয়ে হত্যার বিচার না দেখে রেজিয়ার বাবা আফাজ উদ্দিন গত দু’বছর আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
 
নুরুন্নবী জানান, গত ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ৮ লাখ টাকা এবং ঘটনার পরেই ১ লাখ টাকাসহ মোট ৯ লাখ দিয়েছেন। সে টাকা দিয়ে জমি ক্রয় ও বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করে কোন রকমে জীবীকা নির্বাহ করছি দুইভাই।
 
তিনি আরও জানায়, তার মা রেজিয়া বেগম ঢাকার আগারগাঁয়ে ভারতীয় দূতাবাসে ভিসায় ছবি লাগানোর কাজ করতেন এবং হাজারীবাগ এলাকায় বসবাস করত। ঢাকা মহানগর হাজারীবাগ এলাকার আওয়ামী লীগের নেত্রী আয়শা মোকাররমের হাত ধরে রেজিয়া হাজারীবাগ মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী হয়। দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ঢাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিংয়ে রেজিয়ার ছিল সরব উপস্থিতি। এরই সূত্র ধরে ঘটনার দিন ২০/২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার জনসভায় যোগ দেন রেজিয়া। জনসভা চলাকালীন হঠাৎ ভয়াবহ গ্রেনেড বিস্ফোরণে রেজিয়া খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খবর পেয়ে ২২ আগস্ট নিহত রেজিয়ার বাবা-মা ঢাকায় গিয়ে মেয়ের লাশ সনাক্ত করেন। পরে তাকে ঢাকা আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ