সোনালী ব্যাংক থেকে পটুয়াখালী জুট মিলসের নামে নেওয়া ঋণ নবমবারের মতো পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। জুট মিলসের পরিচালক ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আসম ফিরোজের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এর ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসম ফিরোজের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যে আইনগত বাধা ছিল তা দূর হয়েছে বলে জানান আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। তিনি বলেন, যিনি রিট দায়ের করেছিলেন সেই ব্যক্তি আগামী নির্বাচনে একই আসনের প্রার্থী। ফলে ব্যক্তিগত স্বার্থে এ রিট করা হয়। এছাড়া তিনবারের বেশি ঋণ পুনঃতফসিলের যে কথা বলা হয়েছে তা সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর জুট মিলসের ঋণটি ছিল একটি বিশেষ উত্পাদনমুখী ও কৃষিমুখী ঋণ। ফলে এটা বারবার পুনঃতফসিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে অনুমোদন দিয়েছে।
সোনালী ব্যাংক থেকে আসম ফিরোজের মালিকানাধীন মেসার্স পটুয়াখালী জুট মিলস লিমিটেড আশির দশকে ঋণ নিয়েছিল। বর্তমানে ওই ঋণ সুদে-আসলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত ১৯ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদ ঋণের সুদ মওকুফ করে নবমবারের মতো ওই ঋণ পুনঃতফসিল করে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক তা অনুমোদনও দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আওয়ামী লীগের নেতা বাউফলের পৌর মেয়র মোঃ জিয়াউল হক।
আবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) ১৫তম সার্কুলার অনুযায়ী কোনো ঋণ তিনবারের বেশি পুনঃতফসিল করা যায় না। কিন্তু পটুয়াখালী জুট মিলস লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণ সোনালী ব্যাংক ১৯৯৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত নয়বার পুনঃতফসিল করেছে। যা বেআইনি।
গত ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট ঋণ পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের পক্ষে আইনজীবী এম. আমীর-উল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আজমালুল হোসেন কিউসি এবং রিটকারী পক্ষে রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও এম মাইনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
