মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ ও অবৈধ বিদ্যুত্,পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত গত ১৬ এপ্রিল নেয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। ১৫ দিনের মধ্যে সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সরকারি সংস্থা ও ১ মাসের মধ্যে অবৈধ বসতি উচ্ছেদে পাহাড়ের মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রমজানের আগে পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন সেবা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে লক্ষাধিক লোকের বসবাস। বসবাসকারীরা নিজেদের প্রয়োজনে বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাস ব্যবহার করছে। নিয়ম অনুসারে অবৈধ বসবাসকারীরা এসব সুবিধা পাওয়ার কথা নয়। তারপরও কিভাবে তারা এসব সুবিধা পাচ্ছে সারা বছর তা জেনেও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবস্থা নেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মো.দেলোয়ার হোসেন বলেন, পাহাড়ের যারা মালিক তাদের অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের জায়গায় আমরা যেতে পারি না। আমরা বর্ষা শুরু হলে যাব। এখন এসব অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেবা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। তাই সেবা সংস্থাগুলোকেই উচ্ছেদ ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।’
মতিঝর্ণাসহ আরো অনেক এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত বসতিতে ওয়াসার অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন,‘এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঝুঁকি রয়েছে। হামলার শিকার হতে হয়। একবার বিচ্ছিন্ন করলে তারা আবার সংযোগ স্থাপন করে। আর র্যাব,পুলিশ ছাড়া অভিযান পরিচালনা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করলে আমরা উদ্যোগ নেব।’
এদিকে প্রতি বছরই বর্ষা শুরুর আগে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম দেখা যায়। কিন্তু কিছু বসতি উচ্ছেদ করার পর তাদের কার্যক্রম থেমে যায়। উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার পাহাড় আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এদিকে অবৈধ বসতিগুলোতে বসবাসকারীদের অনেকেই ভোটার। এসব ভোটার নির্বাচনে প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য অবৈধ বসতিতে বিদ্যুত্,পানি ও গ্যাস সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে বলে অভিযোগ আছে।
অবৈধ বসতিতে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বিষয়ে পিডিবি চট্টগ্রাম জোনের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, ‘এসব বসতিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। এদের পিছনে রাজনৈতিক মদদ থাকে। সামনে রমজান মাস আসছে। তখন এটি নিয়ে হইচই শুরু হতে পারে। তবে প্রশাসনের সহায়তায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বসতিগুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) ফিরোজ খান বলেন, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের আলাদা ভিজিল্যান্স শাখা রয়েছে। তাদের ১৮টি টিম রয়েছে। তারা নিয়মিত অভিযান করে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাহাড়ের বসতিতে অবৈধ সংযোগের তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
