চট্টগ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে ভয়ঙ্কর অস্ত্র

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:৫৭
চট্টগ্রামে মাদক ব্যবসায়ীরা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে একের পর এক ইয়াবাসহ মাদকের বড় বড় চালান ধরা পড়ছে। তবে ধরা পড়ছে না যারা মাদক চক্রের নেপথ্যে রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মাঝে মধ্যেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ লিপ্ত হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে মাদকের পাশাপাশি উদ্ধার করা হচ্ছে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র।
 
র‍্যাবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ইয়াবা পাচারের সময় আত্মরক্ষার জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্রের ব্যবহার করছে। এ সব অস্ত্র নিয়ে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে উভয়পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার নগরীর মুরাদপুর এলাকায় র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে অসীম রায় ওরফে ডাইল বাবু নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার পাশাপাশি চার জন র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। এর আগে কিছুদিন আগে খুলশী এলাকায় এরকম এক বন্দুকযুদ্ধে তিন জন র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছিলেন।
 
র‍্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরাও আত্মরক্ষার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে। এ কারণেই তারা নিজেদের কাছে অস্ত্র রাখছে।
 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, অভিযানের কারণে মাঝখানে কিছুদিন ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফের তারা গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। সামনেই আমাদের জাতীয় নির্বাচন। সব অপরাধীই চায় ক্ষমতার আশপাশে থাকতে, ইয়াবা ব্যবসায়ীরাও মনে করছে টাকা পয়সা দিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেবে।
 
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামেও অনেক ভুঁইফোঁড় রাজনীতিবিদ এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এদের মধ্যে কারো কারো প্রচুর অর্থবিত্ত থাকলেও তাদের আয়ের উত্স কী তা কেউ জানে না। এ সব ভুঁইফোঁড় রাজনীতিবিদদের মধ্যে অধিকাংশই ইয়াবা অথবা অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত। জানা গেছে, এ সব ভুঁইফোঁড় রাজনীতিবিদদের সাথে যোগসাজশ রয়েছে একশ্রেণির পুলিশ সদস্য, যা পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি