শনিবার দুপুরে গোয়ালন্দে স্কুলের সামনে বেপরোয়া বাস চাপায় দুই ছাত্রী নিহত হয়। রবিবার এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এবং ঘাতক বাস চালকের শাস্তি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে দশটা থেকে সোয়া এগারোটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করে।
শনিবার দুপুরে নিহত দুই ছাত্রী হলো চাঁদনী আক্তার (১৫) ও জাকিয়া আক্তার কেয়া (১৫)। চাঁদনী উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের যদু ফকির পাড়া ছালাম প্রামাণিকের মেয়ে। ওই ইউনিয়নের ওমর আলী মোল্যা পাড়ার জামাল ব্যাপারী ওরফে জামাল বাবুর্চির মেয়ে জাকিয়া। দুইজন দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ছিল।
রবিবার বেলা সাড়ে দশটার দিকে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডলের নেতৃত্বে কয়েকশ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা শোক র্যালি বের করে। মহাসড়কে প্রায় ত্রিশ মিনিট মানববন্ধন চলাকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল, প্রধান শিক্ষক মো. সহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিব হাসান ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফীর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং ইউএনও রুবায়েত হায়াত শিপলু মহাসড়কে অবস্থান করেন। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর প্রতিশ্রুত অনুযায়ী সোমবার বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কের দুইস্থানে গতিরোধক নির্মাণের ঘোষণা দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এ সময় শিক্ষার্থীরা 'পড়তে এসেছি মরতে নয়’ ‘সময়ের মূল্য নয়! বিভিন্ন শ্লোগান সমৃদ্ধ ফেস্টুন নিয়ে শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভ করতে থাকে।
এর আগে গত শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে ক্যানাল ঘাটে পৌছলে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের সড়ক বিভাজক পার হওয়ার সময় যশোরগামী ঈগল পরিবহনের একটি বেপরোয়া গতির বাস উপরোক্ত দুই ছাত্রীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চাঁদনী মারা যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় জাকিয়াকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের কয়েকশ বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থী মহাসড়ক অবরোধ করে যানজটে থাকা যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুর ও ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী, পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, ইউএনও রুবায়েত হাসান শিপলু, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডল প্রমুখ।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. এজাজ শফী জানান, যশোরে গ্রেপ্তারকৃত বাসসহ চালককে রাতে রাজবাড়ী সদর থানায় আনা হয়েছে। রবিবার সকালে গোল্ডেন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ তাদের একটি বাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাত ২০-২২ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
ইত্তেফাক/নুহু
