চট্টগ্রামে বেসরকারিভাবে আরো সাতটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এসব বিদ্যুত্ কেন্দ্রের দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট। ২০১৯ সালের মধ্যে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো উত্পাদনে যাবে। এ ছাড়া সরকারিভাবে শিকলবাহা এলাকায় ৪০০ মেগাওয়াটের আরো একটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে পিডিবি সূত্র জানায়।
শিকলবাহা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী ভুবন বিজয় দত্ত ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যুত্ কেন্দ্রের সাথে এলএনজি সরবরাহ পাইপ লাইন নির্মাণ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই চাহিদা অনুপাতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রাপ্ত গ্যাস দিয়ে আমরা যে কোনো ৩টি ইউনিট চালু রাখছি। এছাড়া বেসরকারিভাবে অনেকগুলো বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। ২০১৯ সালের মধ্যে এসব বিদ্যুত্ কেন্দ্র উত্পাদনে যাবে। এতে চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় গ্রিডে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত্ যুক্ত হবে।’
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার প্রেক্ষিতে সরকারি ও বেসরকারিখাতে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে সরকারিভাবে বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ১২টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েকটি ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে শিকলবাহা ও জুলধা এলাকায় বেসরকারিভাবে ৭টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এগুলোতে জ্বালানি হিসাবে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা হবে। এদের মধ্যে বারাকা পাওয়ার প্ল্যান্টের ১১০ ও ১০৫ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট ২০১৯ সালের মে মাসের মধ্যে উত্পাদনে যাবে। ১০৮ মেগাওয়াটের জুলধা-৩ ইউনিট আগামী নভেম্বরে ও ১০৮ মেগাওয়াটের জুলধা-২ ইউনিট ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্পাদনে যাবে। ১১৬ মেগাওয়াটের আনলিমা পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০১৯ সালের নভেম্বর ও ৫৪ মেগাওয়াটের জডিয়াক পাওয়ার প্ল্যান্ট আগামী নভেম্বরে উত্পাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ার থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে। ২০১৯ সালের যে কোনো সময়ে এটি উত্পাদনে যাবে।
গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন যাবত চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে উত্পাদন বন্ধ ছিল। এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর শিকলবাহা ও রাউজানের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৩টি চালু করা হয়েছে। আরো দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
পিডিবি (বিতরণ) চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের বিদ্যুত্ নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বর্তমানে চলমান বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ দেয়া যাবে।’
ইত্তেফাক/নূহু
