রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে দেহে কি ধরনের সমস্যা হয় তা সম্পর্কে আমরা কম বেশি সকলেই অবগত। বিশেষ করে যে সকল পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে তারা এটি সম্পর্কে ভাল জানেন। তবে বংশে কারো ডায়াবেটিস থাকলেই কেবল ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা থাকে, তা ঠিক নয়। অন্যান্য অনেক কারণেই দেহে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই অন্তত বছরে এক থেকে দুইবার সকলের রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে।
তবে কিছু কিছু লক্ষণ শরীরে থাকলে বুঝতে হবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। যেমন- ঘন ঘন বাথরুম পাওয়া। দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তা কিডনিতে চাপ দেয় দেহ থেকে সুগার বের করার জন্য। ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে থাকে। ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে কিডনি দেহের কোষ থেকে ফ্লুইড নিতে থাকে। এতে করে দেহে পানির ঘাটতি দেখা দেয় এবং ঘন ঘন তৃষ্ণা পায়। দেহ থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও পানি বের হয়ে গেলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হয় এবং দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে।
এছাড়াও আরো কিছু লক্ষণ যেমন- হাতে-পায়ে বোধ শক্তি কমে যাওয়া, চোখে ঘোলা দেখা, হাতে-পায়ে জ্বালা পোড়া, দেহের ওজন কমে যাওয়া, মাংস পেশি কমে যাওয়া, শরীরে বিভিন্ন অংশের ত্বকের রং কালচে হয়ে যাওয়া, দেহের কোথাও কেটে গেলে শুকাতে সময় নেওয়া ইত্যাদি।
এই ধরনের লক্ষণগুলো দেখা গেলে মোটেই অবহেলা করা উচিত নয়। যতো দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে।
লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ
