সেই রাবেয়ার পুত্র সন্তান প্রসব

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৪৫
বকশীগঞ্জের পশ্চিমপাড়া গ্রামের হতভাগা সেই রাবেয়া ফুটফুেট একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় বকশীগঞ্জ হাসপাতালের লেবার রুমে রাবেয়ার সন্তান প্রসব হয়। বর্তমানে মা ও ছেলে সুস্থ আছেন।
 
জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে পশ্চিমপাড়ার রাবেয়ার প্রসব ব্যাথা উঠে। বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের পরামর্শে রাবেয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলমের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম রাবেয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। দুপুর দেড়টায় বকশীগঞ্জ হাসপাতালের লেবার রুমে সিনিয়র নার্স মাহমুদা আক্তার শিউলির তত্তাবধানে একটি সুস্থ পুত্র সন্তান প্রসব করেন। সন্তান প্রসবের পর যথাযথভাবে তার চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে মা ও ছেলে সুস্থ আছেন। 
 
উল্লেখ্য, বকশীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়ার চার সন্তানের জননী হতদরিদ্র অন্তসত্বা রাবেয়ার স্বামী জাহাঙ্গীর দিনমজুর। সাংসারিক প্রয়োজনে স্থানীয় গ্রামীণ ব্যাংক ও আশা এনজিওর কাছ থেকে রাবেয়া নিজ নামে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন। ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে চাপের মুখে দিনমজুর স্বামী জাহাঙ্গীর নিজবাড়ি ছেড়ে চার সন্তান ও অন্তঃসত্বা স্ত্রী রাবিয়াকে রেখে নিরুদ্দেশ হন। কোনো উপায় না পেয়ে রাবেয়া সন্তানদের নিয়ে বৃদ্ধ দিনমজুর অচল অন্ধ বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু অন্ধ বাবার পক্ষে মেয়ে ও তার ৪ সন্তানের ভরনপোষণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সন্তানসহ অর্ধাহারে অনাহারে দিনকাটতে থাকেন রাবেয়া। 
 
একদিকে অভাব অন্যদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকার চাপ রাবেয়াকে অতিষ্ট করে তুলে। তাই উপান্তর না পেয়ে রাবেয়া নিজের গর্ভের অনাগত সন্তান ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।
 
এই ব্যাপারে গত ৭ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর  বকশীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাবেয়ার নিজ বাড়িতে ছুটে যান।  
 
বিস্তারিত জেনে এবং রাবেয়ার পারিবারিক অবস্থা দেখে ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাবেয়ার হাতে নগদ ১৫ হাজার টাকা তুলেদেন। একই সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক সুপারভাইজার রাবেয়াকে মাতৃত্বভাতা বাবদ ২০হাজার টাকা সহায়তা দেন। একই সময় ইউএনও দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাবেয়ার নামে একটি ভিজিডিকার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে ৩০কেজি খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা ও ঋণ পরিশোধের সার্বিক দায়িত্ব নেন। ফলে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা পায় রাবেয়ার অনাগত সন্তান।  
 
সন্তান প্রসবের পর সুস্থ মা রাবেয়া ও নবাগত সন্তানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বকশীগঞ্জ হাসপাতালর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম। 
 
ইত্তেফাক/কেকে