জামিনে মুক্তি পেয়েই বাদীর বাড়িতে আসামিদের ভাঙচুর

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৫৬
বিচারের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শাহীন মোল্লা (৩৪) নামে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে এসেই বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। একই সঙ্গে বাদী রেহানা বেগম ও মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে নেওয়া না হলে স্বামীর মত তাকে ও সাক্ষীদেরও হত্যা করা হবে বলে মামলার বাদী রেহেনা বেগম অভিযোগ করেছে। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি। 
 
গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৫ নং বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। বুধবার মাঝালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্বামীকে হত্যার পর দুই কন্যা সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন রেহানা বেগম।
 
মির্জাপুর থানা সূত্র জানায়, নিহত শাহীনের পিতার নাম সৈয়দ আলী মোল্লা। গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাঝালিয়া গ্রামে। পেশায় ছিলেন সবজি ব্যবসায়ী। 
 
শাহীনের স্ত্রী রেহানা বেগম অভিযোগ করেন, বিচারের নামে মাতাব্বর মো. আলী ও তার সহযোগীদের নির্দেশে শাহীনের উপর নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে অংশ নেন মাঝালিয়া গ্রামের বাগু মিয়ার ছেলে  সুমন, লেবু খানের ছেলে ইজাজ, নওজেস আলীর ছেলে অয়ন, বজলু মিয়ার ছেলে শামীম, আমজাদ আলীর ছেলে রানা, রিপন, নুরু মিয়ার ছেলে মামুন, মান্নান মিয়ার ছেলে পারভেজসহ ১৫-১৬ জন যুবক। তাদের নির্যাতনে শাহীন বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেও রেহায় পাননি। তার স্ত্রী রেহানা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ওই যুবকরা মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। 
 
এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা তাদের উপর হামলার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শাহীনকে  উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার করেন। কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
এদিকে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে রেহানা বেগম বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন মোহাম্মদ আলী, লেবু, নওজেস, বজলুর রশিদ, দুলাল, অনয়ন ও এজাজসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিরা সম্প্রতি জামিনে এসেছে। জামিনে এসে গত রবিবার রাতে বাদী রেহানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। মামলা তুলে নেওয়া না হলে তাকে ও মামলার সাক্ষীদের একইভাবে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। শাহীনের অসহায় স্ত্রী রেহেনা বেগম ও এলাকাবাসী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
 
মির্জাপুর থানার পুলিশ হারিছুল হক বলেন, শিশুকে যৌন হয়রানী করা হয়েছে এটা ছিল শাহীনের উপর মিথ্যা, সাজানো ও বানানো একটি গুজব। শাহীনের উপর মিথ্যা অভিযোগ এনে কিছু বখাটে ও মাতাব্বর নির্যাতন করে মেরে ফেলেছো। 
 
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, নিহত শাহীনের স্ত্রী রেহানা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাদীকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ