শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার মহাষ্টমী। প্রতিবারের ন্যায় এবারও দুর্গাপূজায় রাজশাহীতে ভিন্ন ধরনের পূজা মণ্ডপ তৈরি করেছে রাজশাহীর টাইগার সংঘ। এবারে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মহাকাশ জয়ের আদলে বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট-১ এর স্বরূপ মণ্ডপ তৈরি করেছে তারা।
টাইগার সংঘ পুজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি শ্রী সুমন চক্রবর্তী বলেন, আমাদের ক্লাব ৩৭ বছর থেকে পূজার আয়োজন করে আসছে। প্রতিবারই আমাদের পরিকল্পনা থাকে একটু ব্যতিক্রম কিছু করার। তাই এবারে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মহাকাশ জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইটের থিম নিয়ে পূজামণ্ডপটি তৈরি করেছি।
এছাড়া মণ্ডপটি প্রতিমা পাথর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপ ও প্রতিমাসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে টাইগার সংঘের এ আয়োজন। তবে বৈরী অবহাওয়ার কারণে এবার খরচের পরিমাণটা বেশি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
টাইগার সংঘ পূজামণ্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী বলেন, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রেরণ বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন। আর এই অর্জনকে প্রাধান্য দিতেই মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও মণ্ডপ পরিকল্পনা একেবারেই নিজস্ব।
এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার পূজা মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। বিভিন্ন পূজা মণ্ডপগুলো ধীরে ধীরে দর্শনীয় হয়ে উঠেছে। সনাতন ধর্মালম্বীরাসহ সকলেই নগরীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে ঘুরে দেখছেন।
সোমবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এবারে দেবী দুর্গা ঘোটক (ঘোড়ায়) চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) এসেছেন, আর যাবেন দোলায় চড়ে। তবে এবার মা দুর্গার আগমন ও গমন দুটোই অমঙ্গলে। এরপরও তিনি জগতের মঙ্গল কামনা করবেন।
পঞ্জিকা মতে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হয় সোমবার। গত রবিবার সায়ংকালে দেবী বোধন অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার শ্রী শ্রী দুর্গাষষ্ঠী। মঙ্গলবার মহাসপ্তমী। বুধবার মহাষ্টমীর পূজা। এদিন সকাল ৯টায় এবং বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে নবমী পূজা। পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টায় পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন হবে সকাল ৮টায়। পরে প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। শুক্রবার বিজয়া দশমী। এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।
এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারেন সেজন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান আরএমপি মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম।
ইত্তেফাক/বিএএফ
