জামিন পেয়েই বাদীর বাড়িতে হত্যা মামলার আসামির হামলা, ভাংচুর

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৫৬
হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে এসেই বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। আসামিরা মামলার বাদী রেহানা বেগম ও মামলার স্বাক্ষীদের হুমকি দিয়েছে। মামলা তুলে নেওয়া না হলে স্বামীর মতো তাকে ও স্বাক্ষীদেরও হত্যা করা হবে বলে আজ শুক্রবার মামলার বাদী রেহেনা বেগম অভিযোগ করেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পরও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদী ও স্বাক্ষীর পরিবার।
 
উল্লেখ্য, গত ৭ সেম্টেম্বর রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৫ নং বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটে। প্রহসনমূলক বিচারের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শাহীন মোল্লা (৩৪) নামে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছিল আসামিরা। স্বামীকে হারিয়ে দুই কন্যা সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন শাহীন মোল্লার স্ত্রী রেহানা বেগম।
 
মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, নিহত শাহীনের পিতার নাম সৈয়দ আলী মোল্লা। গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাঝালিয়া গ্রামে। পেশায় তিনি ছিলেন ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী। পারিবারিক বিরোধ ও পুর্ব শক্রতাকে কেন্দ্র করে তার প্রতিবেশীরা এবং মাঝালিয়া এলাকার কতিপয় বখাটে শাহীনের নামে প্রথমে এক শিশুকে যৌন হয়রানীর মিথ্যা অভিযোগ দেয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ি থেকে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে মাঝালিয়া গ্রামের স্কুল মাঠের পাশে ক্লাবে এনে লাঠি দিয়ে বেদম পেটায়। 
 
শাহীনের স্ত্রী রেহানা বেগম অভিযোগ করেন, প্রহসনমূলক বিচারের নামে মাতাব্বর মোহাম্মদ আলী ও তার সহযোগীদের নির্দেশে শাহীনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে আংশ নেয় মাঝালিয়া গ্রামের বাগু মিয়ার ছেলে সুমন, লেবু খানের ছেলে ইজাজ, নওজেস আলীর ছেলে অয়ন, বজলু মিয়ার ছেলে শামীম, আমজাদ আলীর ছেলে রানা, রিপন, নুরু মিয়ার ছেলে মামুন, মান্নান মিয়ার ছেলে পারভেজসহ ১৫-১৬ জন যুবক। তাদের অমানুষিক নির্যাতনে শাহীন প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও রেহায় পায়নি। তার চিৎকারে স্ত্রী রেহানা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ঐ বখাটেরা মেরে ফেলার হুমকি দেয়। 
 
পরেস্থানীয় কতিপয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও হামলা করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শাহীনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠান। কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
এদিকে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে রেহানা বেগম বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন মোহাম্মদ আলী, লেবু, নওজেস, বজলুর রশিদ, দুলাল, অনয়ন ও এজাজসহ ২৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিরা সম্প্রতি জামিনে এসেছে। জামিনে এসে গত রবিবার রাতে বাদী রেহানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। মামলা তুলে নেওয়া না হলে তাকে ও মামলার স্বাক্ষীদের একইভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। শাহীনের অসহায় স্ত্রী রেহেনা বেগম ও এলাকাবাসী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
 
মির্জাপুর থানার পুলিশ হারিছুল হক বলেন, শিশুকে যৌন হয়রানী করা হয়েছে এটা ছিল শাহীনের ওপর মিথ্যা, সাজানো ও বানানো একটি গুজব।শাহীনের ওপর মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রহসনমূলক বিচারের নামে কিছু বখাটে ও মাতাব্বর তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। 
 
মির্জাপুর থানার প্রধান কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, নিহত শাহীনের স্ত্রী রেহানা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাদীকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।
 
এ ব্যাপারে বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
 
ইত্তেফাক/নূহু