ঝিনাইগাতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত নারী জামিনে

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:০৭
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারকৃত রওশন আরা খাতুন রুমি (৪০) অবশেষে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ১৮অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিনুন্নেছা খানম রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জামিনের আদেশ দেন। রুমি ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভালুকা গ্রামের মরহুম খবির উদ্দিনের মেয়ে ও উপজেলা মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
 
শেরপুররের কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুর রহমান তরফদার গ্রেফতারকৃত রুমির জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্রুত তদন্তে মামলাটি তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। ফলে রিমান্ডের আবশ্যকতা না থাকায় আদালত তার জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন।
 
উল্লেখ্য, ফেসবুকে ললীউল্যাহ নামে একটি ফেক আইডিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী উবায়দুল কাদের এমপির ছবি নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়। রুমি ওই ব্যঙ্গচিত্রটি তার নিজ নামের আইডিতে শেয়ার করে। ওই ঘটনায় সোমবার আদালতে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাদী হয়ে সত্য বিলুপ্ত তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি নালিশি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয় রুমিকে। 
 
পরবর্তীতে বিলুপ্ত আইনে দায়েরের কারনে খোদ মামলাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাদীকে দিয়ে ঝিনাইগাতী থানায় সরাসরি নেওয়া হয় লিখিত অভিযোগ। পরদিন পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ রুমিকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত বৃহস্পতিবার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির জন্য তারিখ ধার্য্য করে রুমিকে জেলা কারাগারে পাঠায়।
 
বৃহস্পতিবার জামিন আদেশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় রুমি বলেন, আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। তাই দলীয় সাধারণ সম্পাদকের ছবি নিয়ে ব্যঙ্গ প্রদর্শন করায় ওই আইডি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে কমেন্টস করে আমি তা শেয়ার করি। কিন্তু আমার কমেন্টের লেখাটি রিমুভ করে দিয়ে শুধু শেয়ার দেখিয়ে আমার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কষ্ট হলেও উচ্চ পর্যায়ের নজরদারীর কারনে মামলা দ্রুত চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল হওয়ায় আমার জামিন জুটেছে। 
 
তবে ওই মামলার বিষয়ে দায়িত্বশীল একটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট আরও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ওই অবস্থায় সদ্য পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় দ্রুত মামলা দায়ের ও এক নারীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অতি উৎসাহী ও বিব্রতকর বলেই মনে হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের কাছে। এ জন্য উচ্চ পর্যায় থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। আর ওই কারনেই মামলা অতি সংক্ষিপ্ত সময়ে তদন্ত করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/নূহু