৪ যুগেও হয়নি ব্রিজ, গ্রামবাসী গড়লো বাঁশ ও কাঠের সেতু

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৩৯
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বঠিয়াভাঙ্গা গ্রামে ইছামতি নদীর উপর একটি সেতুর জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি কয়েক যুগেও পূরণ হয়নি। অবশেষে গ্রামবাসী নিজেদের শ্রমে নদীর উপর বাঁশ ও কাঠের একটি সেতু নির্মাণ করেছে। পাকা না হলেও এটি গ্রামবাসীর কাছে স্বপ্নের সেতু।
 
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ইছামতি নদীর তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন এই বাজারের মাত্র এক কিলোমিটার অদূরে বঠিয়াভাঙ্গা গ্রাম। এই গ্রামে বসবাস প্রায় ৫ হাজার মানুষের। গ্রামটির ২৭ পাড়ায় রয়েছে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি হাইস্কুল। দুর্গাহাটা বাজারের ৩ দিকে পাকা সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও পুরো বর্ষাকাল জুড়ে অবরুদ্ধ থাকতে হয় বঠিয়াভাঙ্গা গ্রামসহ আশেপাশের ১০-১২টি গ্রামের মানুষদের।
 
মাত্র এক কিলোমিটার অদূরে দুর্গাহাটা বাজারে প্রতিদিন গড়ে এক দেড় হাজার মানুষকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা করতে যেতে হয় বাজারে। কিন্তু বর্ষাকাল জুড়ে বছরের প্রায় ৬ মাস নদী পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষাকালে ইছামতি নদীতে অনেক পানি থাকে। নদী পারাপারে সেতু না থাকায়  বর্ষাকালে বঠিয়াভাঙ্গা গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামবাসীদের নদী সাঁতরে তীরে উঠে দুর্গাহাটা বাজারে যেতে হয়।
 
বঠিয়াভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, এতদিন বঠিয়াভাঙ্গা ছাড়াও কীর্ত্তনীয়া, চৌকিবাড়ি, ছাগলধরা, ডোমকান্দি, বরইকান্দি, সোনাতলা, বেতুয়ার কান্দি, ছাইহাটা, শীলদহবাড়ি, ঠাকুরবেড়সহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ প্রতিদিন ইছামতি নদী সাঁতরে চরম ভোগান্তি সহ্য করে দুর্গাহাটা বাজারে যেতেন। বাঁশ ও কাঠের এই সেতু হওয়ায় এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তির কিছুটা হলেও অবসান হবে। তবে এখানে দরকার স্থায়ী সেতু। আপাতত চলার ব্যবস্থা হলেও কতদিন তা টিকবে বলা যাচ্ছেনা।
 
বঠিয়াভাঙ্গা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বলেন, বঠিয়াভাঙ্গা গ্রামবাসীর জন্য নিজের সাধ্যানুযায়ী একটি বাঁশের সেতু তৈরি করা হয়েছে। এখন সরকার পাকা সেতু নির্মাণে এগিয়ে এলে বঠিয়াভাঙ্গা গ্রামবাসীর ভোগান্তির স্থায়ী অবসান হবে।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ