যুক্তরাজ্যের সঙ্গে করা ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। গতকাল রবিবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সম্মেলনে প্রস্তাবিত চুক্তিটি অনুমোদন করা হয়। ইইউ নেতারা চুক্তির ক্ষেত্রে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে সমর্থন দিতে ব্রিটিশদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। থেরেসা মেও চুক্তিটির প্রতি সমর্থন দিতে জনগণের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
গতকাল ব্রাসেলসে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের নেতারা একত্র হন। এক ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে চুক্তিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। ইইউ কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক এক টুইটার বার্তায় চুক্তিটি অনুমোদনের কথা জানান। এর আগে শনিবার জিব্রাল্টার নিয়ে স্পেনের উদ্বেগ দূর হয়। ফলে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সম্মেলন বয়কট না করার কথা জানান।
৬০০ পৃষ্ঠার চুক্তিটি অনুমোদনের পর ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার বলেন, ব্রিটেনের কেউ যদি ভাবেন যে চুক্তিটিকে অস্বীকার করে ভাল কিছু পাবেন তাহলে সেটা ভুল হবে। তিনি চুক্তির প্রতি ব্রিটিশদের সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। চুক্তির ২৬ পৃষ্ঠা আছে ব্রিটেন ও ইইউ’র ভবিষ্যত বাণিজ্য নিয়ে। আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করবে। আগামী মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চুক্তিটি নিয়ে ভোটাভুটি হবে। দীর্ঘ ১৮ মাসের চেষ্টায় একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয় দুই পক্ষ। ২০১৬ সালে এক গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয় ব্রিটিশ জনগণ। যদিও এখন মত বদলেছে। অনেক মন্ত্রীও ব্রেক্সিট চুক্তির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন।
ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে তার নেতৃত্বে হওয়া ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন চুক্তির প্রতি সমর্থন জানাতে নাগরিকদের প্রতি খোলা চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, তার পরিকল্পিত ব্রেক্সিট চুক্তিটি যুক্তরাজ্যের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করবে এবং আগামী বছর যখন চূড়ান্তভাবে যুক্তরাজ্য ইইউ ত্যাগ করবে তখন তা হবে পুরো দেশের জন্য এক পুনর্মিলন।
