পীরগঞ্জে ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় কৃষক

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৫৩
চলতি আমন মৌসুমে পীরগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টরে হাইব্রিড ও ২১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল মিলে মোট ২৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। কিন্তু মাসাধিককাল যাবৎ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে পর্যাপ্ত রস অভাবে আমন ধানের শীষ বের হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়া প্রয়োজন। এতে জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকে এবং শীষ বের হওয়া সহজ হয়। কিন্তু মাসাধিককাল যাবৎ (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে) এ উপজেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে রসের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে শীষ বের হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষকরা বাড়তি খরচ করে ধানক্ষেতে সম্পূরক সেচ দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। 
 
তবে গরীব ও প্রান্তিক চাষীরা অর্থাভাবে সেচ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সারা উপজেলায় এ অবস্থা চলতে থাকায় কৃষকেরা সেচ দিতে বাড়তি খরচ যুগিয়েও ফলনের ব্যাপারে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
 
চন্দরিয়া আমির পাড়ার জাকির হোসেন, গিয়াস উদ্দীন, বৈরচুনা গ্রামের হাজী নুর আলম, আব্দুল হক, মহনপুর গ্রামের রশিদুল হক, একরামুল হক, ভেলাতৈড় গ্রামের সইফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও মুক্তারুল ইসলাম, বীরহলী গ্রামের রাজা, আব্দুর রশিদ, ভেমটিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান, রসুল, মোয়াজ্জেম, চাপোড় গ্রামের আব্দুল জলিল, আব্দুল ওহাব, সেনগাঁও গ্রামের খলিলুর রহমান, গিয়াস উদ্দীন ও আবু তাহের প্রমুখের সঙ্গে কথা বলে এমন হতাশার চিত্রই পাওয়া গেছে।
 
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল আলম জানান, ২১০টি গভীর নলকূপ ও ২৮টি লো-লিফ্ট পাম্প থেকে নিয়মিত সেচ প্রদান করা হচ্ছে।
 
উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম সারওয়ার আলম জানান, এ উপজেলায় কৃষক পর্যায়ে ১২ হাজার ৪০০ ডিজেল চালিত ও ৯১০টি বিদ্যুৎ চালিত স্যালো পাম্প রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ এবং তিনি নিজে কৃষকদের মাঠে গিয়ে নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন ও সেচ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু