খাবার পানির সংকটে কুতুবদিয়ার পাহাড়ি পরিবার

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৫৪
রাঙ্গামাটির দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলার কুতুবদিয়া এলাকার প্রায় ১৫/২০ পাহাড়ি পরিবারের লোকজন বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকটে রয়েছে। প্রতিদিন বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করতে পাহাড়ি নারীরা এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন। 
 
জানা গেছে, রাঙ্গামাটির দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলার কুতুবদিয়া এলাকায় প্রায় ১০/১৫ পাহাড়ি পরিবারের বসবাস। সেখানে নেই কোন রিং ওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েল। কয়েক বছর আগে যেসব রিং ওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েল কয়েকটি গ্রামে দেওয়া হয়েছিল তার বেশির ভাগ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে পানীয় জল সংগ্রহে দুর্ভোগের কারণে প্রতি বছর অনেকে অনিরাপদ নদী ও ঝর্ণার পানি পান করে থাকেন। এতে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন গ্রামের সাধারণ পাহাড়িরা।
 
বিলাইছড়ির কুতুবদিয়া পাড়ার নমিতা তঞ্চঙ্গ্যা (৪৫) এক নারী বলেন, আমরা বিশেষ করে নারীরা পানীয় জল সংগ্রহ করে থাকি। আমাদের পাড়ায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের উৎস না থাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার দূর হতে অতিকষ্টে পানীয় জল সংগ্রহ করে আসছি। আমাদের পাড়ায় কয়েক বছর আগে স্থাপিত একটি রিংওয়েল ছিল সেটা নষ্ট হওয়ায় আমাদের পাড়ার নারীদের এ দুর্গতি দেখা দিয়েছে। এটি সংস্কার করা হলে আমরা এ কষ্ট হতে পরিত্রাণ পেতাম। এছাড়া কাপ্তাই লেকের পানি শুকিয়ে গেলে অন্য কোথাও হতে পানীয় জল সংগ্রহ করা আমাদের সম্ভব হয় না। তাই আমরা বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে প্রায় চার-পাঁচ মাস পর্যন্ত ওই পরিত্যক্ত রিংওয়েল গর্ত হতে রশি বেঁধে বোতল ডুবিয়ে রিংওয়েল গর্তের অপরিশোধিত বদ্ধপানি অতিকষ্টে উত্তোলন করে থাকি। এভাবে এক একটি বোতল করে কলস ভর্তি করতে অনেক সময় লাগে। 
IMG0
বোতল ডুবিয়ে রিংওয়েল গর্ত থেকে পানি উত্তোলন করছেন নারীরা। ছবি: ইত্তেফাক
 
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জয়তন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বিষয়টি সঠিক। তারা অনেক কষ্টে পায়ে হেঁটে ও নৌকা যোগে পানীয় জল সংগ্রহ করে আসছেন। ওই পাড়ার রিংওয়েলটি সংস্কারযোগ্য এবং তাদের কষ্ট ও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে এটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
 
ইউপি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান বলেন, চলতি অর্থ বছরে এডিপি প্রকল্পে রিংওয়েল সংস্কারের কোন বাজেট রাখা হয়নি। তাই পরবর্তীতে বাজেট হলে এটি সংস্কারের বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। তবে পরিত্যক্ত রিংওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
 
উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী (অ. দা.) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চলতি অর্থ বছরে রিংওয়েল মেরামতে আমাদের কোন বাজেট বরাদ্দ নাই। বরাদ্দ যদি হয় তা হলে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
 
উপজেলা চেয়ারম্যান শুভমঙ্গল চাকমা বলেন, পানীয় জলের সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাদের পরিত্যক্ত রিংওয়েল সংস্কারের বিষয়টি আমার জানা আছে। পরিত্যক্ত রিংওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েল সংস্কারের কোন বরাদ্দ না থাকার কারণে এগুলো সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এসব সংস্কারের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ