মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ফসল তামাক চাষ থেকে কৃষকদের বিরত রাখতে নানা সময় সরকারি, বেসকারি পদক্ষেপ নেয়া হলেও কাজের কাজ তেমন হচ্ছে না। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই ভালো দাম পাওয়ার কারণে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় বহু চাষি দীর্ঘদিন যাবত আগ্রহের সাথে এ তামাক চাষ করে যাচ্ছে। উপজেলার বড়টিয়া, সিংজুরি, নকিববাড়ী পূর্ব আশাপুর, শিমুলিয়া, চরমাইজখাড়া, বাইলজুরি, জাবরা, কেল্লাই, তরা অঞ্চলে তামাক চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।
কৃষি প্রধান এ অঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের চাষ হলেও তামাক চাষ বাদ দিতে পারছে না কৃষকরা। কারণ অন্য ফসলের তুলনায় তামাকে কম পুঁজিতে বেশি লাভ। তামাক চাষে প্রতি বিঘায় খরচ হয় মাত্র আট হাজার থেকে দশ হাজার টাকা, আর প্রতি বিঘায় লাভ হয় ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ হাজার টাকা। তাই সিগারেট ও বিড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যাচ্ছে তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় গত বছর তামাক চাষ হয়েছিল প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে। গেল বছরের তুলনায় এবার তামাক কিছুটা কম চাষ হয়েছে- প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে। চাষ কিছুটা কম হলেও এ বিষবৃক্ষ চাষে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, আমরা বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে সভা করে কৃষকদের তামাক চাষে নিরুত্সাহীত করে যাচ্ছি এবং কৃষকদের অন্যান্য লাভজনক ফসল, বিশেষ করে মশলা জাতীয় ফসল ও সবজি চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এর ফলও পাওয়া গেছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার তামাক চাষ কিছুটা কম হয়েছে।
