আগৈলঝাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের বিল প্রদান করতে পদে পদে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা। দু’ একটি ব্যাংকের শাখায় বিল গ্রহণ করলেও অধিকাংশ ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় বিদ্যুৎ বিল নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া ও বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যাংক স্টাফদের দুর্ব্যবহার ও বাক বিতণ্ডার অহরহ ঘটনার পাশাপাশি ব্যাংক স্টাফদের কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। বিল প্রদানে চরম ভোগান্তি আর হয়রানীর শিকার থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা সদরে একটি বুথ স্থাপনের মাধ্যমে বিল প্রদান সুযোগের দাবি জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুতের হাজার হাজার গ্রাহক।
উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. সাইফুল ইসলাম রব অভিযোগ করে বলেন, আগে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলোতে পল্লী বিদ্যুৎ বিল নেওয়া হত। বর্তমানে আগৈলঝাড়া কৃষি ব্যাংক শাখা ছাড়া বিদ্যুৎ বিল অন্য ব্যাংকগুলো নেয় না। তাও আবার দুপুর একটার পরে ব্যাংকে বিল নেয় না তারা।
সপ্তাহের বৃহস্পতিবার কোন বিলই গ্রহণ করে না ব্যাংক। ফলে গ্রাহকেরা বিল দিতে গিয়ে লাইন দিয়ে দাড়িয়েও বিল দিতে না পেরে চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে। বিল প্রদানের নির্দিষ্ট শেষ তারিখে বিল দিতে না পেরে অনেক গ্রাহকই বিলম্ব মাশুল দিয়ে বিল দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এসকল বিড়ম্বনায় পরে অনেকে বিল দিতে না পেয়ে মাসের বিল বকেয়াই ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও ৪শ টাকার উপরে বিল হলে গ্রাহকের প্রদান করা বিলে সরকারী রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানোর সরকারি নিয়ম থাকলেও অসাধু ব্যাংক কর্মচারীরা ওই ষ্ট্যাম্প না লাগানোর ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। দিন শেষে হিসেব করে সরকারের ওই রাজস্ব চলে যায় তাদের পকেটে।
শুধু সাইফুল ইসলামই নয়, তার মতো বিল প্রদানে হয়রানীর শিকার হওয়া গ্রাহকেরা অভিযোগে বলেন, উপজেলা সদর থেকে জোনাল অফিস গৈলার দূরত্ব তিন কিলোমিটারেরও বেশি। গৈলা ও আশপাশের এলাকা এবং যাদের বিদ্যুৎ অফিসে কাজ থাকে এমন গ্রাহক ছাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে শতকরা ২০ ভাগ গ্রাহকও বিল প্রদান করে না। বাকী গ্রাহকেরা বাধ্য হয়ে সব রকম প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ব্যাংকগুলোতে বিল প্রদান করে আসছেন। ব্যাংকের হয়রানী আর খামখেয়ালীরে কারণে বেশীরভাগ গ্রাহকই ব্যাংক বিমুখ হয়ে বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে শতকরা ১০টাকা বাড়তি টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ বিল প্রদান করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিকাশে প্রদান করা বিলেও কোন এজেন্ট ব্যবহার করছে না কোন রাজস্ব স্ট্যাম্প। ফলে সেখানেও সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল গ্রহণের জন্য উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ অফিসের একজন স্টাফের মাধ্যমে একটি বুথ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। বুথ স্থাপন হলে বিল প্রদানের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বহু গুন।
আগৈলঝাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হযরত আলী জানান, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্থানীয় সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সহযোগিতায় বরিশাল জেলার মধ্যে সর্বপ্রথম আগৈলঝাড়া উপজেলাকে একমাত্র শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে চলতি বছরের ২২ আগস্ট ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগৈলঝাড়া কৃষি ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায় জানান, ব্যাংকের নিজস্ব কাজের চাপের সঙ্গে প্রতিদিন শতশত গ্রাহকের বিল নিতে স্টাফরা অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ের পর অনীহা প্রকাশ করলেও তিনি নিজে বিল নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।
ডিজিএম মো. হযরত আলী বলেন, গ্রাহকদের বিল প্রদানের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষর সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে। তারা বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিল নিতে বাধ্য।
বিল প্রদানের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে স্টাফ সংকটের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, খুব শীঘ্রই ইসলামী ব্যাংক শাখার মাধ্যমে বিল প্রদান করতে পারবেন গ্রাহকেরা। বিলে রাজস্ব না দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন বিল তাকে দেখালে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগামী উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে গ্রাহকের জন্য সহজভাবে বিল প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
