রাজসিক সংবর্ধনার মধ্যদিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন বরিশালের নবনির্বাচিত সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। দায়িত্ব গ্রহণ করেই নব নির্বাচিত মেয়র বলেছেন, ৩শ’ কোটি টাকার দেনা নিয়ে নগর পিতার আসন গ্রহণ করেছি। কর্পোরেশনের কি অবস্থা আছে সেটা এখনো ভালো ভাবে বলতে পারছি না। দেনা যতদিন পরিশোধ না হবে, ততদিন আমি কর্পোরেশনের সম্মানী নেব না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বেশ ভালো করেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অবস্থা জানেন। এই দেনা আমার কাছে কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় নগর ভবনে মেয়র ও কাউন্সিলরদের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি উন্নয়নের বিষয়ে বলেন, উন্নয়ন করার মত অনেক কিছু আছে। তবে মুখে নয়, আমি কাজ করে তা দেখাতে চাই। তবে নির্বাচনের আগে আমি বারবার বলেছি বর্ধিত এলাকার উন্নয়নের কাজ করব। বস্তি ও নগরীর সড়ক ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করব। আমি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, যেখানে নগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের উন্নয়ন সাধিত হবে।
অতীতে কর্পোরেশনের দুর্নীতির বিষয়ে সাদিক বলেন, অতীতের দুর্নীতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। এতে কোনো মেয়র বা কাউন্সিলর জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি যদি আমি নিজেও জড়িত থাকি সেই বিষয়েও যথাযথ নিয়মে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আইন মান্য করে প্রত্যেককে কাজ করতে হবে। আমি জনপ্রতিনিধিদের আগেই বলেছি বিষয়টা। কোনো কাউন্সিলর ঠিকাদারী কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারবে না। আমি সামনের সিটি নির্বাচনে মানুষের কাছে আর ভোট চাইবো না, মানুষ যাতে আমাকে এমনিতেই ভোট দেয় সেইভাবে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে আমি চলছি।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অভিষেক অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন নতুন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
সিটি করপোরেশনের সামনে ফজলুল হক অ্যাভিনিউ রোডে মেয়রকে বরন করে নিতে বিসিসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মোশারফ হোসেন, ডিজিএফআই কর্নেল জেএম শরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান, জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, নব-নির্বাচিত মেয়রের সহোদর সেরনিয়াবাত মঈন আব্দুল্লাহ, আশিক আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
গত ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর দুই মাস পরে নবনির্বাচিত মেয়র এবং মোট ৩১ জন কাউন্সিলকে সরকারি গেজেটভুক্ত করে নাম প্রকাশ করা হয়। তবে ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহনে অনিয়মের অভিযোগে ৯ কাউন্সিলরকে গেজেট ভুক্ত করা হয়নি। একই কারনে শপথ অনুষ্ঠানের সময়ও পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর ওই ৯ কেন্দ্রে পুন ভোট গ্রহনের মাধ্যমে ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত করা হয়। এর পর পরই প্রায় তিনমাস পর সোমবার নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলদের শপথ গ্রহন শেষে রাজসিক অভিষেকের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহন করেন।
নব-নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার পরিষদের নির্বাচিত ৪০ কাউন্সিলরকে বরন করে নিতে নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে ব্যাপক সাজ-সজ্জা করা হয়। নগরীর প্রান কেন্দ্র বিবির পুকুর, জেলা পরিষদ পুকুর ঘেরা নব-নির্বাচিত মেয়রের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা করা হয়। নগরভবনকেও সাজানো হয় বধূর সাজে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে তোড়ন, ব্যানার ও বিলবোর্ড তৈরী করা হয়।
বিকেল ৩টার দিকে রিকসা যোগে নব-নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ বাসভবন থেকে নগর ভবনে পৌঁছান। পথিমধ্যে নগরীর সদর রোড ও গীর্জা মহল্লায় অপেক্ষমান বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীরা ফুল ছিটিয়ে মেয়রকে বরন করেন।
এদিকে দুপুরের পর থেকেই নগরীর ফজলুল এভিনিউতে অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে সড়কটি বন্ধ থাকে। পাশাপাশি নগরীর মূল সড়ক সদর রোডেও ট্রাফিক পুলিশ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে অপর সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১ লাখ ১১ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭৬ ভোট।
ইত্তেফাক/এমআই
