কুমিল্লার চান্দিনাবাসীর উন্নত চিকিৎসায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও পদ তৈরি না হওয়ায় ৫০ শয্যায় উন্নীত করার দুই বছর পাঁচ মাসেও চালু হয়নি তার সেবার কার্যক্রম!
চান্দিনা উপজেলা সদরে অবস্থিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৯৭৫ সালের ৯ জুন ৩১ শয্যায় রূপান্তর করা হয়। এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চান্দিনা উপজেলার সাড়ে ৪ লাখ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, বুড়িচং উপজেলার ১টি ইউনিয়ন, মুরাদনগর উপজেলার ১টি ইউনিয়নের জনগণের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জনগণের উন্নত চিকিৎসার কথা চিন্তা করে ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর ৫০ শয্যার উন্নীত করণের কাজ শুরু হয়।
৩১শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট আরও একটি নতুন ভবনের সকল অবকাঠামো নির্মাণ হয়। এরপর ২০১৬ সালের ২৮ মে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করন শেষে উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৪৩ বছরে তিন ধাপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যার পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন আসেনি সেবার মানে।
এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিন গড়ে দেড়-দুই শত রোগী বহিঃবিভাগে সেবা নিতে আসলেও নেই পর্যাপ্ত সেবা। মাত্র ২-৩ জন ডাক্তারই দেড় শতাধিক রোগীর ভরসা। জরুরী বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও ডাক্তার সংকট, জনবল ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সংকটের অজুহাতে তুচ্ছ ঘটনায় রোগীদের হাতে রেফার শ্লিপ ধরিয়ে দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে অধিকাংশ রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ওই হাসপাতালটির অবস্থান হওয়ায় মহাসড়কের বুড়িচং, চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও দাউদকান্দি অংশের প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের পড়তে হচ্ছে খুব বিপাকে।
মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কোরপাই থেকে দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেই তাদেরকে নিকটবর্তী চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসা হয়। কিন্তু হাসপাতালটিতে কোন উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় নামমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই তাদেরকে অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে।
নিয়মানুযায়ী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ২২ জন ডাক্তার, ২১ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও চান্দিনা উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রয়েছে মাত্র ৫ জন ডাক্তার ও ১৪ জন নার্স। যা ৩১ শয্যার প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাছিমা আকতার জানান, হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করণ উদ্বোধন করা হলেও তার প্রশাসনিক অনুমোদন এখনও হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া উদ্বোধন করা হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েই উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ শয্যার জন্য কনসালটেন্ট, সার্জন ও মেডিকেল অফিসারসহ যে পরিমাণ পদ সৃষ্টি করার প্রয়োজন তা এখনও হয়নি। অপরদিকে ৩১ শয্যার বরাদ্দ দিয়েই চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ, অর্থ বরাদ্দ ও পদ সৃজন করা হলেই সম্পূর্ণরূপে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব। আর ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হলে রোগীরা এ হাসপাতালেই উন্নত চিকিৎসা পাবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
