বাগমারায় পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে গ্রাহক অতিষ্ঠ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৯
বাগমারা উপজেলার পল্লী বিদ্যুত গ্রাহকরা ভূতুড়ে বিলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এসব বিল থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুত অফিসে গেলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। 
 
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলাতে পল্লী বিদ্যুত নাটোর-১ এর আওতাধীন এলাকা হিসাবে বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়। রাজশাহীর এই বৃহৎ উপজেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলে প্রায় ৮৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানকার বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকরা পূর্বে যেখানে ৫ থেকে ৬শ টাকা বিল দিতেন। এখন তারা বেশ কিছু দিন ধরে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার বিল পেয়ে আসছে বলে জানান। এমনকি বিলে প্রদত্ত রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুত মিটারের রিডিংয়ের কোনো মিল থাকে না। এতে গ্রাহকরা বিল পরিশোধে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব সমস্যার বিষয় নিয়ে কেউ বিদ্যুত অফিসে গেলে তাদের বলা হয় এই বিল পরিশোধ করে দিন, পরের বিলের সঙ্গে সমন্ময় করে দেওয়া হবে। 
 
গ্রাহকদের অভিযোগ, স্থানীয় মিটার রিডাররা কেউ সরেজমিনে মিটার দেখতে আসে না। তারা অফিসে বসে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করে দেয়। এতে গ্রাহকরা ভূতুড়ে বিলের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। 
 
পল্লী বিদ্যুত অফিসে সূত্রে জানা গেছে, প্রতি এক হাজার গ্রাহকের জন্য এক জন মিটার রিডার থাকার নিয়ম থাকলেও এই অফিসে মিটার রিডার রয়েছে মাত্র ৩৫ জন। এদের অনেকের চাকুরী আবার অস্থায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিটার রিডার জানান, তাদের উপর বিশাল কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। আবার সামান্য ভুলত্রুটি পেলেই তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অথচ এই অফিসে নতুন লাইন সংযোগ ও মিটার পেতে ঘুষ বাণিজ্যের মহোৎসব চললেও খুঁটির জোরে তারা বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছে। 
 
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুত সমিতি বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রেজাউল করিম অফিসে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, লোকবল স্বল্পতার কারণে সাময়িক কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। অতিদ্রুত কিছু লোকবল নিয়োগ করা হচ্ছে। সামনে মাস থেকে গ্রাহকদের এসব সমস্যার পড়তে হবে না।
 
ইত্তেফাক/নূহু