ওসমানীনগরে বাবার মুক্তির দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে শিশু সাফওয়ান

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:২৪
সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারের ওয়ালিমা ফার্মেসীর পরিচালক শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়েছে। মানববন্ধনে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বাবার মুক্তির দাবি জানায় শহিদুলের ৫ বছরের শিশুপুত্র সাফওয়ান চৌধুরী। এ সময় শিশুটির আকূতি মানববন্ধনস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
 
বুধবার বিকালে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিশুটির দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে উপজেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র গোয়ালাবাজারের সর্বস্তরের লোকজন।
 
জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে গত রবিবার দিবাগত রাতে দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন উপজেলার গোয়ারাবাজারের ওয়ালিমা ফার্মেসীর পরিচালক শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় র‌্যাব-৯ এর একটি দল গোয়ালাবাজার এলাকা থেকে দুই ভাইসহ শহিদুলকে আটক করে। আটকের কিছুক্ষণ পর তার দুই ভাইকে ছেড়ে দিলেও শহিদুলকে নিয়ে যাওয়া যায় র‌্যাব সদস্যরা। সোমবার দিবাগত রাতে তাকে ওসমানীনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
 
এ বিষয়ে র‌্যাব-৯ এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শহিদুলকে আটকের পর তার দেহ তল্লাশী করে সহস্রাধিক পিস ইয়াবা পাওয়া গিয়েছে। শহিদুলের বাড়ি উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কচপুরাই গ্রামে। শহিদুলের  ওপর থেকে মামলা প্রত্যাহার এবং তার মুক্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠেছেন উপজেলার গোয়ালাবাজারের ব্যবসায়ীরা।
 
বুধবার উপজেলার গোয়ালাবাজারে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওপর সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে এলাকার কয়েক শতাধিক ব্যবসায়ী অংশ নেয়। মানববন্ধনে মামলা প্রত্যাহার ও শহিদুলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, শহিদুল ইয়াবা ব্যবসায়ী নয়, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাই বিষয়টি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। 
 
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য ও ব্যবসায়ী আসিক মিয়া, গোয়ালাবাজার বণিক সমিতিরি সভাপতি আবদুর রব গেদা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক পরিমল দেব, সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন, ব্যবসায়ী গৌছ মিয়া, আবদুল গফফার চৌধুরী, মনির মিয়া, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিলদার আলী ও রুহেল মিয়া।
 
মানবন্ধনে অংশ নেন ডাঃ সিরাজুল ইসলাম, বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন রাজা চৌধুরী মিফতা, ড্রাগ সমিতির সভাপতি করবী রঞ্জন গোস্বামী, ফার্মেসি ব্যবসায়ি আব্দুর রহিম, অজিত দেব, শফিকুর রহমান, মিয়াদ আহমদ, মাসুদ আহমদ, ব্যবসায়ি নিধির রঞ্জন সূত্রধর, শফিকুল ইসলাম, সুখময়, শিকদার মোহাম্মদ কিবরীয়াহ, লেছু শিকদার, কামাল শিকদার, ফারুক মিয়া ঠিকাদার, বাবলু মিয়া, আবদুল মতিন গজনভী, বণিক সমিতি নেতা আমির খান, এমএ মতিন, আবদুল কাইয়ুম, ফিরুজ মিয়া, শশাঙ্ক, ওয়াহিদুর রহমান, কবির মিয়া, হাবিবুর রহমান, ইউপি সদস্য আমিরুল শিকদার, জামাল মিয়া, সোনা মিয়া গাজী ও আবদুল বশির প্রমূখ।
 
শহিদুলের ভাই শাহ জামান চৌধুরীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, একটি পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ওই চক্রের দায়ের করা এক ডজন মামলা ইতিমেধ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে শহিদুলকে।
 
ইত্তেফাক/নূহু