নদীর উপর ভাঙা-চোরা সাঁকো। তারপরও স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রতিনিয়ত শতশত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। একইসঙ্গে পার করছে সাইকেল, ভ্যান ও মোটরসাইকেল। প্রয়োজনের তাগিদই মানুষকে ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে। এমনই বিড়ম্বনার দৃশ্য দেখা যায় তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শালিখা-কাঁটিপাড়া সড়কের কপোতাক্ষ নদীতে সাঁকো পারাপারের সময়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে ব্রিজ না থাকায় প্রতিনিয়ত জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শালিখা-কাঁটিপাড়া সড়কটি দিয়ে খেশরা, জালালপুর ও মাগুরা ইউনিয়নের বেশীরভাগ মানুষ কাঁটিপাড়া বাজার, বাঁকা বাজার, পাইকগাছা উপজেলা, আশাশুনি উপজেলা ও সাতক্ষীরা জেলা শহরে যাতায়াত করে। ব্রিজের অভাবে তাদের অনেক কষ্ট শিকার করতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে কপোতাক্ষ নদী ভরাট ও পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জনসাধারনের চলাচলের সুবিধার জন্য সাঁকোর ঐ স্থানটিতে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে পাখিমারা টিআরএম ও কপোতাক্ষ পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় এই নদীটি খনন করার সময় রাস্তাটি ভেঙে ফেলা হয়। তখন থেকে জনগণের দুর্ভোগ শুরু হয়। জনসাধারণের সাময়িক চলাচলের জন্য স্থানীয় জনগণ খেশরা ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান এসএম লিয়াকত হোসেন ও খেশরা পুলিশ ক্যাম্প ইনচাজের্র সমন্বয়ে একটি ঘাঁট কমিটি তৈরি করে নিজেদের অর্থায়ানে সেখানে সাঁকোটি তৈরি করে। ঘাট কমিটির পক্ষ থেকে মটরসাইকেল ও ভ্যান প্রতি ১০ টাকা সাইকেল প্রতি ৫ টাকা ও জনপ্রতি ২ টাকা করে টোল আদায় করা হয়। মাল বোঝাই যানবাহন আনা-নেওয়া ও টোল দেওয়ার ভয়ে জনগণ শুকনো মৌসুমে শালিখা কলেজের সামনে দিয়ে বিকল্প মাটির রাস্তা হয়ে চলাচল করে। এতে তাদের সময় বেশি লাগে এবং খরচ বেশি হয়। আর বর্ষা মৌসুমে সাঁকো পারাপার ছাড়া আর কোন উপায়ই থাকে না।
শিক্ষক আব্দুল হক মোড়ল, শফিকুল ইসলাম, ভ্যান চালক ময়েন উদ্দীনসহ কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে খুব অসুবিধা হয়। কাঁটিপাড়া ও বাঁকা বাজার থেকে জিনিসপত্র আনতেও ঝামেলা হয়। এছাড়া অসুস্থ রোগীকে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিতে গেলে সাঁকোর ঐ পার পর্যন্ত ভ্যানে করে নিয়ে যেতে হয়। এ্যাম্বুলেন্স পার হতে পারে না।
বিধান কুমার দাশ, কল্যাণ রায়, আবু তালেবসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রায়দিন এই কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে তাদের মালমাল আনা নেওয়া করতে হয়। সাঁকোর এপার থেকে ভ্যান আনলোড করে পানের ডালি, ধানের বস্তাসহ বিভিন্ন মালামাল মাথায় করে নিয়ে ওপারে গিয়ে আবাার ভ্যানে তুলতে হয়। এতে দুর্ভোগের পাশাপশি বহন খরচ অনেক বেশি হয়।
এলজিআরডি কর্তৃপক্ষ স্থানটি কয়েকবার মাপের কাজ এবং মাটি পরীক্ষা করলেও ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে তেমন কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এদিকে দ্রুত এই স্থানটিতে একটি ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
ইত্তেফাক/এমআই
