নলডাঙ্গায় গণভোজ না দেওয়ায় এক পরিবার সমাজচ্যুত

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:১৯
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় সোলায়মান আলী নামে এক ব্যক্তির এক পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের সমাজ প্রধানদের আবদার মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় সমাজচ্যুত হতে হয় তাকে। প্রায় এক বছর ৩ মাস পরিবারটি সমাজচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে!
 
পরিবারটির বড় ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় সমাজের প্রধানদের আবদার সমাজের লোকজনদের গরু জবাই করে ভোজ খাওয়াতে হবে। ভোজ খাওয়াতে রাজি না হলে সমাজপতিরা সালিশি বৈঠক ডাকে। সে বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় ওই পরিবারকে এক বছর ধরে সমাজচ্যুত (একঘরে) করা হয়েছে। এর পর থেকে মাঠের ফসলি জমি সমাজের লোকদের বর্গা নিতে নিষেধসহ জমি চাষে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
 
সোলায়মান আলীর পরিবারকে সমাজ প্রধানরা শুধু সমাজচ্যুত করে ক্ষান্ত হয়নি, ওই পরিবারের সঙ্গে ওঠা-বসা, মসজিদ-ঈদগাহে নামাজ পড়া নিষেধ করা হয়। মাঠে ফসলি জমিতে সমাজের কেউ কাজ করতে পারবে না, এমনকি তার জমি-পুকুর নতুনভাবে কেউ দীর্ঘমেয়াদী বর্গা, লিজ নিতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সমাজচ্যুত হওয়ার আগে তাদের যারা জমি লিজ নিয়েছে তাদের মেয়াদ শেষ হলে তারা পূণরায় ওই জমি লিজ নিতে পারবে না। এতে এক বছর তিন মাস ধরে পরিবারটি মানবেতর জীবন-যাপন করছে। 
 
ভুক্তভোগী সোলায়মান আলী জানান, গত কোরবানির ঈদের এক টুকরা মাংস পযন্ত কেউ দেয়নি। গত রমজান ঈদের আগে সমাজের গোরস্থানে আমার ছোট ছেলে সংস্কার কাজ করতে গেলে তাকে সমাজের লোকজন পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এমনকি আমার মাঠের জমি চাষ ও পুকুর মাছ চাষ এবং জমি বর্গা নিতে নিষেধ করায় আমি মহাবিপাকে পড়েছি।
 
শ্যামনগর গ্রামের সমাজের দুই প্রধান আহাদ আলী ও কাসেম আলী জানান, আমাদের সমাজের নিয়ম, আইনকানুন না মানায় সালিশি বৈঠকে সমাজের সবার মতামত নিয়ে সোলায়মান আলীকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করার চুড়ান্ত সিন্ধান্ত নেওয়া হযেছে। সমাজের দুই প্রধান আরোও জানান, সোলায়মান আলীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করার পর তাদের মাঠের কৃষি জমি ও পুকুর বর্গা নিয়ে সমাজের কোন লোক চাষ করতে পারবে না বলেও ওই বৈঠকে সিন্ধান্ত হয়। 
 
পিপরুল ইউপির ৩ নম্বর ওর্য়াড সদস্য বকুল দেওয়ান জানান, সোলায়মান আলীর ছেলের বিয়ে নিয়ে সমাজের লোকদের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় তাকে সমাজচ্যুত করা হয়েছিল বলে শুনেছিলাম। তবে এটা সঠিক হয়নি বলে মনে করি। 
 
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল রহমান সমাজচ্যুত করার ব্যপারে বলেন, এটা সমাজের ব্যাপার। তবে সমাজের বিধিবিধান যদি প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় তাহলে ভুক্তভোগী ব্যাক্তি প্রতিকার চাইলে আমরা আইনগত সহয়তা দিব। 
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিক আল রাব্বি জানান, ঘটনাটি আমার জানা নাই। খোঁজখবর নিয়ে জানাতে পারবো।
 
ইত্তেফাক/নূহু