বগুড়ায় ২৫ পরিবারের মানবেতর জীবন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কামনা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৪২
বগুড়ার শাজাহানপুরে বাড়িঘর গুড়িয়ে দেওয়া ২৫ পরিবারের প্রায় শতাধিক সদস্য পালিয়ে অন্যত্র মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তালেব ও কমিউনিটি পুলিশিং নেতা কাদের মাস্টারের তাণ্ডবে তাদের হাত থেকে একদিনের শিশু সন্তানও রেহাই পায়নি। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
শুক্রবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শাজাহানপুর উপজেলার ভান্ডারপাইকা সিমেরপাড়ার মৃত সিমেন সরদারের ছেলে চাঁন মিয়া ও ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
 
সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম তালেব এবং খোট্রাপাড়া ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের মাস্টারের সন্ত্রাসী বাহিনী ভূক্তভোগী অসহায় পরিবারের ৬টি বাড়ি ভাংচুর করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। এ সময় তাদের বাড়ির সমস্ত জিনিষপত্র গরু, ছাগল, হাঁস মুরগীসহ সমস্ত লুটপাট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসী বাহিনীর তাণ্ডবের সময় অসহায় ২৫ পরিবারের ৯০ জন সদস্য এক কাপড়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করে। এমনকি চাঁন মিয়ার ভাগ্নে রহিমের স্ত্রী ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্তান প্রসব করলেও সন্ত্রাসীরা তাকেও রেহাই দেয়নি। ঐ একদিনের শিশু সন্তানকে নিয়ে জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন হাসনা বানু। 
 
রহিমের স্ত্রী মোছাঃ হাসনা বানু জানান, একদিনের শিশু সন্তানকে নিয়ে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি। আমরা পাকিস্তানী বাহিনীর অত্যাচারের কাহিনী শুনেছি। কিন্তু এ ঘটনা দেখে মনে হলো ১৯৭১ সালের পাক বাহিনী পুনরায় আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে নির্যাতন করছে। যাদের মধ্যে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর জন্যও কোন মমতা নেই।
 
ঐ পরিবারগুলোর সদস্যরা জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা ও কমিউনিটি পুলিশিং নেতার বাহিনীর পাশাপাশি তাদের সঙ্গে শাজাহানপুর থানার পুলিশও যুক্ত হয়েছে। আমাদের পৈতৃক জমি বুঝে না পেয়ে আমরা আদালতে মামলা করি। এ ঘটনার পর তালেব এবং কাদের মাস্টারের নির্দেশে আমাদের নামে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করলে থানার এসআই মাসুদ রানাসহ একদল পুলিশ রাতে এসে লাঠি দিয়ে মুকুলের বাড়ি ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ কোহিনুর(৫০) নামের বৃদ্ধাকেও পিটিয়ে আহত করে। মুকুলকে মারপিট করে গুরুতর আহত অবস্থায় ধরে নিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
 
ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, আমাদের ভিটেমাটি দখল করতেই তালেব ও কাদেরের সঙ্গে মিলিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আর কয়েকদিন পর জমির ধান কাটতে হবে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমিতে ধান রোপন করেছি। সেই ধানও তারা আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আইন মোতাবেক জমি না পেলে জোর করে নিতে চাই না। আমরা ন্যায্য বিচার চাই। এসব ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
 
ইত্তেফাক/নূহু