ওসমানীনগরে বাস খাদে, নিহত ২

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৪৮
ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটনাস্থলে জামাই ও শ্বশুর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বুয়েটের অধ্যাপকসহ প্রায় ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। 
 
শনিবার দিবাগত রাত দেড় ১টার দিকে উপজেলার বুরুঙ্গা সড়কের মুখ নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আহত ১৭  জনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। 
 
রবিবার বিকাল পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় সনাক্ত করতে না পারায় সন্ধ্যা ৫টার দিকে অজ্ঞাতনামা হিসাবে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটিকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ। 
 
পরবর্তীতে সন্ধ্যায় নিহতের আত্মীয় স্বজনরা সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের মর্গে এসে লাশ দুটির পরিচয় সনাক্ত করেন। এসময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
 
নিহতরা হলেন, বরিশাল জেলার বানারী পাড়া উপজেলার বেতাল গ্রামের মোবারক হাওলাদারের পুত্র সুলতান মিয়া হাওলাদার (৫৫) ও তার মেয়ের জামাই একই উপজেলার গড়দাড় গ্রামের সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাঁ এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ সরদারের পুত্র বাহরাইন প্রবাসী মাছুম সরদার (৩৫)। নিহত মাছুম সরদারের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের শাহী ঈদগা এলাকায় বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বাহরাইন থেকে দেশে আসেন। ছুটি কাটিয়ে রবিবার সকালে ঢাকাস্থ শাহজালালে আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের এক ফ্লাইটে তার বাহরাইন পারি জমানোর কথা ছিল। সে লক্ষ্যে তিনি শনিবার দিবাগত রাতে শ্বশুরকে নিয়ে এনা পরিবহনের একটি বাসে করে এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার স্বীকার হন। 
 
নিহত মাছুমের ছোট ভাই বাহরাইন প্রবাসী মুহিব উল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রবিবার ভোরের এক ফ্লাইটে আমার ভাইয়ের বাহরাইন যাওয়ার কথা ছিল। পথিমধ্যে ঘাতক বাস আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমার অসুস্থ বাবা হার্ট এ্যাটাক করেছেন। এছাড়া চার বছর বয়সী একমাত্র ভাতিজাসহ পরিবারের লোকজন বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। সবাইকে নিয়ে আমি এখন দিশেহারা। 
 
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- বুয়েটের অধ্যাপক সৈয়দ জামাল আহমদ (৫০), আছমা সরকার পপি (৩৪), কবির মিয়া (৫০),আবু নাসির মোল্লা (৫০),জাকির হোসেন (৩৮),হৃদয় রায় (১৮), সেলিনা আক্তার (৩৫), শাহানাজ খান (৪০),শরিফ(২১), মো. তুষার(৮), রোজিনা আক্তার (৩৫), মোতাহার হোসেন (৪৭), ফরিদা ইয়াসমিন (৪২), টিপু সুলতান (২৪), আশরাফুল কবির (৫০), সুফিয়া বেগম (২৫) মো. শহিদ (২৭)। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকার গাজিপুর এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা বলে ফার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা গেছে।  
 
জানা যায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী এনা পরিবহনের বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১৪ -৭৪ ৫২) নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বুরুঙ্গা সড়কের মুখ নামক স্থানে রাস্তার পাশে খাদে পরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাস যাত্রীদের মধ্যে দুইজন নিহত হন এবং ২০ জন আহত হন। 
 
তাজপুর বালাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ রাজা মিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত দুই ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। তাৎক্ষনিক ১৭ জন আহত যাত্রী হাসপাতালে প্রেরণ করতে সক্ষম হই। 
 
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ বিমল চন্দ্র ভৌমিক জানিয়েছেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে রবিবার বিকালে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করি। সন্ধ্যায় নিহতের আত্মীয় স্বজনরা লাশ দুটির পরিচয় শনাক্ত করেছেন।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ