ময়না তদন্তের স্বার্থে দাফনের ৮২ দিন পর কবর থেকে সাব্বির (২২) নামে এক যুবকের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল মিয়াপাড়া গ্রামের কবরস্থান থেকে তার গলিত লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়। সাব্বির ওই গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে স্বপনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির মুরইল বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত আল-নুর এগ্রোভিট কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের ১০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তার পরিচিত ৬/৭ জন বন্ধু এসে সাব্বিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সাব্বির তার নিজ মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধদের সাথে বেরিয়ে পড়েন।এ সময় তার মোটরসাইকেলের পিছনে বসা ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু জামালপপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার দক্ষিণ গিলাবাড়ি গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে রিপন (২০)। রিপনও সাব্বিরের সাথে একই কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এদিকে ওই রাত ৮ টার সাব্বিরের বাড়িতে সংবাদ আসে যে সাব্বির বগুড়ার সদর উপজেলার ঘোলাগাড়ী গ্রামের মাঠের দামা নামক স্থানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরে সাব্বিরের পরিবার হাসপাতালে পৌঁছে সাব্বিরকে মৃত অবস্থায় এবং রিপনকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। তবে সাব্বিরের পরিবার বিনা ময়না তদন্তে হাসপাতাল থেকে সাব্বিরের লাশ গ্রামে এনে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন। দাফনের আগে সাব্বিরকে গোসল দেওয়ার সময় তার শরীরে দুর্ঘটনার তেমন কোন চিহ্ন দেখেত না পেয়ে তাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
এদিকে আহত রিপন ঘটনার ৬ দিনের মাথায় ১৬ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাবার পর তার ময়না সম্পন্ন হয়। তার ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনও পুলিশের হাতে পৌঁছেনি। আপর দিকে সাব্বিরের পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন দুর্ঘটনায় সাব্বিরের মৃত্যু হয়নি। মুরইল আদর্শ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীতার জের ধরে তার বন্ধুরা তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছেন। পরে সাব্বিরের বাবা ঘটনাটি হত্যা বলে উপলব্ধি গত ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (নং-৪)৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা (নং ১৫৫২-সি/১৮-সদর) দায়ের করাসহ ছেলে সাব্বিরের লাশ ময়না তদন্তের জন্য— উত্তোলনের আবেদন করেন।
এর প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ মণ্ডলের উপস্থিতিতে বগুড়ার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) বিভাগ মুরইল মিয়াপাড়া গ্রামে সাব্বিরের পারিবারিক কবরস্থান থেকে সাব্বিরের গলিত লাশ উত্তোলন করে বগুড়া মর্গে প্রেরণ করে। লাশ উত্তোলনের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পিবিআই এস.আই নুর হোসেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ
