সিলেটের বাদাঘাটের চেঙ্গের খাল নদী তীরে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত এই কারাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দূরে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য ও কারাগারের অবকাঠামো ও নির্মাণ শৈলী চমৎকার। গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে করাগারটি নির্মাণে ব্যায় হয়েছে ২৭০ কোটি টাকা। এটি নির্মাণে প্রায় সাত বছর সময় লেগে যায়। বেশি সময় লাগার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বন্যা, বৃষ্টিসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার জনিত কারণে বেশ সময় বেশি লেগেছে। কারাগারটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হয় নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল জানান, নতুন কারাগার উদ্বোধন করা হলেও পুরনোটিও বহাল থাকবে। ডিসেম্বর নাগাদ নতুন কারাগারে কিছু বন্দি স্থানান্তর করা হবে। তবে নতুন কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের স্থানান্তর করা হবে। নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
২০১০ সালে সিলেটের নতুন কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছিল। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র মতে, বাদাঘাট এলাকায় অভ্যন্তরে ১৬ একর ও বাইরে ১৪ একর জমি নিয়ে মোট ৩০ একর জায়গার ওপর নির্মিত নতুন কারাগার। যেখানে স্থাপনা করা হয়েছে ৫৯টি। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকভাবে ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরে কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু হলেও কাজ শেষে ব্যয় দাঁড়ায় ২৭০ কোটি টাকায়। কারাগারে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, একশ শয্যার পাঁচতলা বিশিষ্ট চারটি হাসপাতাল, স্কুল ও লাইব্রেরি ভবন ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মকর্তাদের জন্য একশ ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
এদিকে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে উপস্থিত সিলেট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। তারা সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ কয়েছ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুনেছা হক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল প্রমুখ।
IMG0
দুইশত ২৯ বছর আগে তৈরী হয় সিলেট কারাগার
সেই ব্রিটিশ শাসনামল ১৭৮৯ সালে সিলেটের ধোপাদীঘির পাড় ঘেষে তৎকালীন আসামের কালেক্টর জন উইলিয়াম ২৫ একর ভূমির উপর স্থাপন করেছিলেন বর্তমান কারাগারটি। সূত্র মতে তখন এটি নির্মাণে ব্যায় হয় প্রায় এক লাখ ভারতীয় রুপি। সিলেট কারাগারটি তৎকালীন সময়ে আসামের গুরুত্বপূর্ণ একটি কারাগার হিসেবে বিবেচিত হতো। ইতিহাসের বহু সাাক্ষী লালা ইট ঘেরা সিলেটের এই কারাগারটি। সময়ে সময়ে কারাগারটি দুর্ধর্ষ অপরাাধীদের এখানে পুরা হতো। বৃটিশ, পাকিস্থান ও বাংলাদেশ আমলেও বহু রাজনৈতিক নেতা ও দেশ প্রেমিক এই কারাগারে বন্দী জীবন কাটিয়েছেন।
এখানে বন্দী জীবন কাটিয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক এনায়েত উল্লাহ খান, বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পরিকল্পনা মন্ত্রী মোস্তফা কামাল, কেএম ওবায়দুর রহমান। পাকিস্থান আমলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই করাগারে ছিলেন বেশ কিছু দিন।
কারাগারের অভ্যন্তরের লাইব্রেরীটিকে বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে প্রকোষ্টে ছিলেন সেখানে স্থানান্তর করা হয়। পুরাতন এই করাগারটি স্থানান্তরেরর পর এই স্থানে লাইব্রেরীকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগের কথা ভবছেন সিলেটের বিশিষ্টজনরা।
ইত্তেফাক/কেআই
